মোস্তফা রুহুল কুদ্দুস ॥ প্রশাসন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুণে মানে ও পরীক্ষার ফলাফলে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেও ধনী-গরিব সকল নাগরিকের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। সেখানকার শিক্ষা ব্যয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। যৌক্তিক-অযৌক্তিক নানা খাতে তারা উচ্চহারে ফি নিচ্ছে। ৩০টি খাতের পরও রয়েছে বিবিধ খাত। নতুন পুরনো সকল শিক্ষার্থীকেই গুণতে হচ্ছে এ টাকা। ভর্তি যুদ্ধের কঠিন ব্যারিকেড পার হয়ে একবার ভর্তি হবার পরও পরিত্রাণ পাচ্ছে না তারা। প্রতিবছরই মোটা অংকের টাকা দিয়ে তাদের ভর্তি হতে হচ্ছে। ফলে, নিম্ন আয়ের মানুষ সন্তানদের ভাল প্রতিষ্ঠানে ভর্তির কথা ভাবতে পারছেন না। যশোর প্রশাসনের উদ্যোগে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এগুলো হচ্ছে, পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কালেক্টরেট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বর্ডার গার্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও নবকিশলয়। সবগুলো প্রতিষ্ঠানই প্রথম সারির। পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিবছরই সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে। সে কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো অভিভাবকদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্য কুলাচ্ছে না শিক্ষা ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বশেষ প্রতিষ্ঠিত হয় যশোর কালেক্টরেট স্কুল। বর্তমানে এর ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ৮ শতাধিক। এই স্কুলে অধ্যয়নরত তৃতীয় থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সেশন ফি ৫ হাজার ৫শ’ টাকা থেকে ৬ হাজার ৫শ’ টাকা। নতুনদের আরও ১ হাজার টাকা করে বেশি। মাসিক বেতন ৬৫০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকা। পরীক্ষার ফি ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। এছাড়াও ৯ম ও ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার জন্যে বিজ্ঞান ল্যাব চার্জ ৮শ’ টাকা এবং ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কম্পিউটার ল্যাব চার্জ বাবদ আরও ৫শ’ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের সেশন ফির মোট খাত রয়েছে ২৭টি। এর মধ্যে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত খাত রয়েছে ৩টি। ৪ নং ক্রমিকে রক্ষণাবেক্ষণ শিরোনামে ৩শ’ টাকা, ১৯ নং ক্রমিকে মেরামত ও নবায়ন শিরোনামে ১ হাজার টাকা ও ২৪ নং ক্রমিকে আসবাবপত্র (মেরামত ও নবায়ন) শিরোনামে ৫শ’ টাকা। এই তিনটি খাতেই প্রতিষ্ঠানের এককালীন আয় হওয়ার কথা অন্তত ১৫ লাখ টাকা। আর মাথাপ্রতি ৭ হাজার টাকা ধরলে ৮শ’ ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে ৫৬ লাখ টাকা আয় হবার কথা। প্রতিষ্ঠানের আয়ের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি খাত হচ্ছে মেরামত ১ হাজার ৫শ’ টাকা, ডায়রি ৫শ’ টাকা, পরিচয় ২৩শ’ টাকা, অনুষ্ঠান ৩শ’ টাকা, বিদ্যুৎ সামগ্রী ৪শ’ টাকা। এতো খাতে এতো বেশি ফি নেয়ার পরও বিবিধ খাতে ধরা হয়েছে ১শ’ টাকা।
এর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এটি এমপিওভুক্ত হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের চাপে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিতে হয়েছে। যারা এমপিও বহির্ভূত। তাদের বেতন দিতে গিয়ে যেমন ব্যয় বেড়েছে, তেমনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কারণে মোটা অংকের টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। তারপরও কালেক্টরেট স্কুলের চেয়ে পুলিশ লাইন স্কুলের শিক্ষা ব্যয় বেশি। সেখানে প্রথম থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৭ হাজার হতে ৮ হাজার ২৬০ টাকা পর্যন্ত ভর্তিকালীন ফি নেয়া হচ্ছে। ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখায় মাসিক বেতন ও পরীক্ষার ফি ৭শ’ টাকা। গাড়ি ভাড়া ৭শ’ টাকা। অবশ্য কোন খাতে কত টাকা করে নেয়া হচ্ছে, তা জানাতে প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের চেয়ে শাহীন স্কুল ও দাউদ পাবলিক স্কুল বেশি ফি নিচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংখ্যা সহস্রাধিক। তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা করে নিলে ভর্তিকালীন ৭০ লক্ষাধিক টাকা আয় হবার কথা। প্রধান শিক্ষক জানান, ্আয়ের পাশাপাশি ব্যয় রয়েছে। ননএমপিও শিক্ষকদের বেতনসহ গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের তারা ফি পাঠদান ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন।
যশোর শিক্ষা বোর্ড স্কুল সরকারি হলেও এখনো কার্যকর হয়নি। এখানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেয়ার প্রায় ৩ ডজন খাত রয়েছে। এবার ভর্তির সময় খাতওয়ারি টাকা উল্লেখ না করে অধিক ফি নেয়া হচ্ছে। নবম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ৮ হাজার ৮৭০ টাকা। ৩য় শ্রেণি ফি ৭ হাজার ২শ’ টাকা এবং মাসিক বেতন ৭শ’ টাকা। ৯ম শ্রেণির মাসিক বেতন ৮৫০ টাকা। গাড়ি ভাড়া ৭শ’ টাকা। এখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। ভর্তিকালীন আয়ের পরিমাণও বেশি। অবশ্য বর্ডার গার্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও নবকিশলয়ের বেতন ফি প্রশাসনের অন্য স্কুলের তুলনায় অনেক কম।



