শিমুল হাসান, লোহাগড়া (নড়াইল) ॥ বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও সকল শিক্ষার্থীই অনুপস্থিত। গতকাল নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরকালনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শনিবার এমনই ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অভিযোগে পরিচালনা পরিষদের সভাপতিকে ডিবি পুলিশ আটক করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেয়ার অনুষ্ঠানে একজন অভিভাবক মঞ্চের কাছে এসে বলেন তার সন্তান দু মাস পা ভেঙে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। ঠিকমতো পড়তে পারেনি। তাই শিশুটিকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার অনুরোধ জানান ওই অভিভাবক। এসময় প্রধান শিক্ষক শামীম আরা বলে ওঠেন, ‘সভাপতির বাপেরও ক্ষমতা নাই,আপনার সন্তানকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করে বই দেবে।’ মঞ্চে উপস্থিত সহকারী শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসী প্রধান শিক্ষকের কথা শুনে বিস্মিত হন। প্রধান শিক্ষকের এমন কথায় ক্ষুব্ধ হন সভাপতি হেমায়েত হোসেন মোল্যা নিজেও। রাগান্বিত হয়ে উচ্চস্বরে প্রধান শিক্ষককে দু কথা বলে মঞ্চ থেকে নেমে যান। পরে সহকারী শিক্ষকরা দুঃখ প্রকাশ করে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করেন। কিন্তু পরের দিন ২ জানুয়রি ওই বিদ্যালয়ে ডিবি পুলিশ গিয়ে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য শোনে।
এ ঘটনার জের ধরে গত ১০ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে নড়াইল থেকে ডিবি পুলিশ এসে কালনাঘাট থেকে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হেমায়েত হোসেনকে আটক করে পুলিশ সুপারের দফতরে নিয়ে যায়। দুপুর ১টার দিকে পুলিশ হেমায়েত হোসেনের কাছে প্রধান শিক্ষকের সাথে কী ঘটেছে তা জানতে চান। বক্তব্য শুনে পুলিশ হেমায়েত হোসেনকে ছেড়ে দেয়। এদিকে বিদ্যালয়ের সভাপতিকে পুলিশে আটকের প্রতিবাদে ও প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতা, শিশুদের নির্যাতন করাসহ প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ কর দিয়েছে। সভাপতিকে আটকের পরের দিন ১১ জানুয়ারি থেকে এ অবস্থা বিদ্যালয়ে।
প্রধান শিক্ষক শামীম আরা বই বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির সাথে বিরোধ বাধার বিষয়টা স্বীকার করে বলেন,‘আমি সভাপতির দাদা তুলে কথা বলেছি,বাপ তুলে নয়। অথচ অশ্লীল ভাষায় সভাপতি আমার সাথে কথা বলেছেন।’ সভাপতি হেমায়েত হোসেন মোল্যা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক আমার বাপ তুলে কথা বলেছেন। কষ্ট পেয়েছি। তারপরেও সবাইকে নিয়ে বই বিতরণ করেছি। আরতো কোন বিরোধ ছিল না। কিন্তু প্রধান শিক্ষক এসপি সাহেবের কাছে অভিযোগ দিয়ে ডিবি পুলিশ দিয়ে আমাকে আটক করিয়েছেন।’ শিক্ষার্থীরা কেন বিদ্যালয়ে আসছে না, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম, শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদ ও অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ধর্মঘট করেছে শুনেছি। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সাইদুজ্জামান বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের সাথে সভাপতির মনোমালিন্যের বিষয়টি শুনেছি। সভাপতিকে পুলিশে আটকের কথাও শুনেছি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ধর্মঘট করেছে খবর পাইনি। বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।’ নড়াইলের পুলিশ সুপার(এসপি) জসীম উদ্দিন পিপিএম(বার) এ বিষয়ে বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হেমায়েত হোসেন মোল্লাকে আনা হয়েছিল। বক্তব্য নিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। শিক্ষাার্থীদের ধর্মঘটের বিষয়টি শুনিনি। খোঁজ নিচ্ছি।’




