কেশবপুরে চাঁদাবাজি মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের কেশবপুরে পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনায় মজিদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন কেশবপুর থানা পুলিশের এসআই সুপ্রভাত মন্ডল। চার্জশিটে অভিযুক্ত অপর দুজন হচ্ছেন-কেশবপুর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের আসলাম সানা (৩০) ও নিছার মহলদারের ছেলে লালু মহলদার (৩৫)।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর বিকেলে শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গনি সানার ছেলে আব্দুল গফ্ফার সানাকে মজিদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারমান শহিদুল ইসলাম মোবাইল ফোন করেন। এ সময় তিনি তাকে জানান যে, তার বিরুদ্ধে থানায় নাশকতার মামলা রয়েছে। এই মামলা থেকে বাঁচতে হলে তাকে কেশবপুর থানার ওসি, ইনসপেক্টর (তদন্ত) ও ভালুকঘর পুলিশ ক্যাম্পে ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে। কিন্তু আব্দুল গফ্ফার সানা তার বিরুদ্ধে কোন নাশকতার মামলা নেই বলে জানান। তারপরও শহিদুল ইসলাম তাকে বলেন তার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা আছে। পরে মোবাইল ফোনে কথা শেষে আব্দুল গফ্ফার সানা শ্রীরামপুর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে শ্রীরামপুর মাদ্রাসার পেছনে পৌঁছালে শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সহযোগী আসলাম সানা ও লালু মহলদার তার ওপর চড়াও হন। এ সময় তারা তার কাছে ফের ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। নইতো তাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। কিন্তু আব্দুল গফ্ফার সানা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসলাম সানা ও লালু মহলদার তার কাছে থাকা সাড়ে ৯ হাজার টাকা জোরপূর্বক কেড়ে নেন। এ সময় তারা তাকে এমন বলেন যে, ‘শহিদুল চেয়ারম্যানের হুকুমে সাড়ে ৯ হাজার টাকা নিয়ে গেলাম। বাকি সাড়ে ৫ হাজার টাকা আগামীকাল সকালের ভেতর দিয়ে দিবি’। এছাড়া এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। পরে আব্দুল গফ্ফার সানা এ ঘটনায় কেশবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। উল্লেখ্য, চার্জশিটে অভিযুক্ত ৩ জনকে আটক দেখানো হয়েছে।

ভাগ