কলারোয়ায় তৎপর গাইড বইয়ের সিন্ডিকেট

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ সাতক্ষীরার কলারোয়ায় নতুন বছরের শুরুতে গাইড বই বাণিজ্য শুরু হয়েছে। পৌর সদরসহ উপজেলার স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোয় নতুন বছরের শুরুতেই এ গাইড বই বাণিজ্যে মেতে উঠেছে শিক ও বই প্রকাশনী সংস্থাগুলো। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিার্থীদের জন্য নতুন বছরের শুরুতে বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসার সঙ্গে অলিখিত চুক্তি করছে গাইড বই প্রকাশনী। স্কুল ভেদে ২০/৩০ হাজার থেকে ৫০/৮০ হাজার টাকার চুক্তি হয়েছে অসাধু শিকদের সঙ্গে। প্রতি বছরের মত এবারও জানুয়ারি মাসের শুরুতে উপজেলার অধিকাংশ শিা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অলিখিত এ চুক্তি হয়েছে বলে জানা যায়। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠান চুক্তির অর্ধেক টাকা অগ্রিম নিয়েছে গাইড কোম্পানিগুলো থেকে। এ ঘটনাটি স্থানীয় অভিভাবকদের ভাবিয়ে তুলেছে রীতিমত। তারা মনে করছেন, জানুয়ারি মাস থেকেই নতুন বইয়ের সঙ্গে নিষিদ্ধ গাইড বইও শিার্থীদের কিনতে বাধ্য করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় একটি শক্তিশালী গাইড বই বিক্রির সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ‘কতিপয়’ বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও বই ব্যবসায়ীরা।
ইতোমধ্যে উপজেলার অধিকাংশ লাইব্রেরিতে গাইড মজুদ করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদপে নিতে দেখা যায়নি। উপজেলা মাধ্যমিক শিা কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান, নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের সর্ম্পকে মাধ্যমিক অফিস অবগত নন। কেউ এ ধরনের অবৈধ গাইড বই প্রকাশনীর সাথে চুক্তি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদিকে ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০২০ শিাবর্ষে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণির শিার্থীদের জন্য পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি নোট-গাইড ও ব্যাকরণসহ অন্যান্য সহায়ক বই বিক্রির অলিখিত চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে স্কুলগুলোর সঙ্গে- জননী প্রকাশনী, লেকচার, হাসান বুক হাউজ, জুপিটার, পপি, অনুপম,পাঞ্জেরী সংসদ ও মাদ্রাসাগুলোর সঙ্গে আল ফাতাহ, বারাকাহসহ বিভিন্ন বাহারী কোম্পানি চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে স্কুলে স্কুলে গিয়ে তাদের বই কিনতে লিফলেট বিতরণ শুরু করেছে। কলারোয়া পৌর সদরের তুলসীডাঙ্গা গ্রামের রণজিৎ কুমার ঘোষ জানান, শুধুমাত্র অতিরিক্ত কিছু অর্থ উপার্জনের জন্য আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত ‘পাঠ্যবই’ ঠিকমত না পড়িয়ে শিার্থীদের গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরশীল করা হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে কঠোর হস্তপে কামনা করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, গাইড বই বিক্রি বন্ধে উপজেলায় কঠোর নজরদারি রাখা হবে। একই সঙ্গে অবৈধ লেনদেনের বিষয়ে
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভাগ