লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পেণাস্ত্র হামলায় কমপে ৮০ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল জানায়, মঙ্গলবার মধ্যরাতে ১৫টি পেণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৮০ মার্কিন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। পেণাস্ত্রগুলো কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হয়নি। ইরানের প্রতিরা বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তার সূত্রে দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল এই খবর দিয়েছে বলে কাতারভিত্তিক আলজাজিরা জানায়। ইরাকের আল আসাদ এবং ইরবিলে ঘাঁটি দুইটিতে হামলায় ব্যাপকভাবে মার্কিন হেলিকপ্টার ও সামরিক সরঞ্জাম তিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করে ইরান। তবে হামলায় য়তি ও হতাহতের দাবির সপে কোনো ধরনের প্রমাণ দেয়নি ওই সূত্র। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের মুখে ‘চপেটাঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দুর্নীতিবাজদের তাড়াতে এই হামলা ‘পর্যাপ্ত’ ছিল না।
এদিকে এক টুইট বার্তায় দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির উপদেষ্টা হেসামউদ্দিন আশেনা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো সামরিক পদপেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সর্বাত্মক যুদ্ধ দিয়ে মোকাবেলা করা হবে। হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হামলা চালালে তার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিনিদের আরও ১০০টি ল্যবস্তু চিহ্নিত করা হয়েছে দাবি করে তেহরান। ওয়াশিংটন ও তেহরান জানাচ্ছে, ইরানের জেনারেল সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে এটাই প্রথম পদপে ইরানের। পেন্টাগন জানাচ্ছে, যুদ্ধকালীন তির মোকাবিলায় ব্যস্ত তারা। তবে এখনো কোনো য়তির খবর পাওয়া যায়নি। পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা প্রস্তুত ছিল। কেননা গত কয়েক দিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা চলছে। আত্মরার তাগিদেই এই পেণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। হামলার পরে ইরানি মন্ত্রী টুইটার বার্তায় বলেন, ‘ওই দুই সেনাঘাঁটি থেকে আমাদের নাগরিক এবং সামরিক কর্মকর্তাদের ল্য করে হামলা চালানো হচ্ছিল। তাই জাতিসংঘের ৫১ নম্বর ধারা মেনে আত্মরার তাগিদে এই পদপে করা হয়েছে। আমরা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই না। কিন্তু যে কোনও রকম আগ্রাসন প্রতিহত করতে প্রস্তুত আমরা।’ প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ভোরে ইরাকে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন মেজর জেনারেল সোলেইমানি। তিনি ইরানি সেনাবাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন। ইসরায়েলি হামলা ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে হামাসকে সহায়তা দিত সোলেইমানির কুদস বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন শক্তি ও ইসরায়েলের আতঙ্ক হয়ে উঠেছিলেন এই ইরানি জেনারেল। এ ছাড়া সিরিয়া যুদ্ধে আসাদ সরকারকে সহায়তা ও আইএস নিধনে ভূমিকা রাখেন তিনি। ওই হামলায় সোলেইমানিসহ নিহত হন অন্তত ১০ জন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়।





