স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের চাঁচড়া চেকপোস্ট থেকে চড়াটানা পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের জন্যে দু’পাশের গাছ কাটা হলেও মূল কাজ বন্ধ রয়েছে। যথাযথ তদারকির অভাবে কেটে ফেলা গাছের একটি অংশ বেহাত হয়ে গেছে। সেগুলো সংরক্ষিত আছে বলে জেলা পরিষদ থেকে দাবি করা হলেও তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গত নভেম্বর মাসে শহরের চাঁচড়া চেকপোস্ট থেকে দড়াটানা মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়। এ কাজের দায়িত্ব পায় মোজাহার এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড। তরিঘড়ি করে তারা চেকপোস্ট থেকে ডালমিল পর্যন্ত কাজ করার পর বন্ধ করে দেয়। কাজের চাপ সামলাতে না পেরে প্রতিষ্ঠানটি অন্যত্র চলে যায়।
জানা গেছে, একই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অধীনে যশোর-বেনাপোল, খুলনা-ঝিনাইদহ মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা কাজ শুরু করে জনসাধারণকে ভোগান্তিতে ফেলে এখন বেনাপোলে কাজ করছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজের শুরুতে তড়িঘড়ি করে সড়কের দুই পাশের বিভিন্ন স্থানে থাাক অনেক মূল্যবান মেহগনি, রেন্ট্রি, তেঁতুল, কদবেলসহ নানা প্রজাতির গাছ কেটে সাবাড় করে টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই। গাছ কাটার সাথে সাথে কে বা কারা গাছের ডালপালা ও মূল্যবান অংশ নিয়ে যায়। ওই সময় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয় গাছগুলো সড়ক উন্নয়নের স্বার্থে কাটা হচ্ছে। গাছের ডালপালাসহ অন্যান্য অংশ কেটে নিয়ে যাচ্ছে না। ওগুলো জেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপরও গাছের বিভিন্ন অংশ জেলা পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়নি। সব গাছ রাস্তার পাশেও নেই। অবশ্য জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার মনজুর হোসেন জনান, বিভিন্ন প্রজাতির ৪০ থেকে ৪৫টি গাছ কাটা হয়। তবে স্থানীয়রা জানান, আমল সংখ্যক অনেক বেশি। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে প্রত্যেকটি গাছের গুঁড়িসহ মূল্যবান অংশ তাদের অফিস চত্বরে আনা হয়েছে। কিন্তু তাদের কথার সাথে বাস্তবের মিল নেই। সরেজমিনে দেখা দেখা গেছে, সেখানে অনেক গাছের গুঁড়ি ও অংশ থাকলেও সেগুলো পুরানো। নতুন কয়েকটি গাছের গুঁড়ি দেখা গেলেও লগ, ডালপালার কোন হদিস নেই। এ বিষয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুলের কাছে জানতে তার কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার মনজুর হোসেন বলেন, সব গাছ জেলা পরিষদ চত্বর নিয়ে আসা হয়েছে। তবে গাছ কাটার সময় ডালপালা স্থানীয়রা নিয়ে গেছে। সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়। পরে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড বেনাপোল সড়কে কাজে ব্যস্ত থাকায় এই কাজটি বন্ধ আছে। অচিরেই কাজ শুরু হবে।





