লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে উপসাগরীয় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরাক। শুক্রবার মার্কিন রকেট হামলায় বাগদাদে ইরানি জেনারেল কাশেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকে অন্তত ৫টি স্থানে মার্কিনিদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলা মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতিতে চারদিক থেকে ইরানকে ঘিরে রেখেছে মার্কিন সেনারা। পাল্টাপাল্টি ওই অবস্থার মধ্যে যুদ্ধের ‘লাল পতাকা’ উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। মার্কিন সেনাদের অবিলম্বে বাগদাদ ছেড়ে যেতে বলেছে ইরাকি পার্লামেন্ট। এ অবস্থায় ইরাকে থাকা ২ লক্ষাধিক বাংলাদেশিদের অভয় দেয়ার চেষ্টা করছে বাগদাদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। এক জরুরি ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রদূত আবু মাকসুদ মোহাম্মদ ফরহাদ প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইরাকের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আপনারা কোনোভাবে মনোবল হারাবেন না। বিচলিত বা উদ্বিগ্ন হবেন না।
মনে রাখবেন, দূতাবাস সব সময় আপনাদের পাশে আছে ও থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক ইরাক পরিস্থিতি এবং দেশটিতে থাকা বাংলাদেশিদের খোঁজ খবর রাখছেন জানিয়ে ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রয়োজন ছাড়া আপনারা বাসস্থান ও কর্মস্থল ব্যতীত যেখানে সেখানে যাতায়াত করবেন না। সভা-সমাবেশ এবং গোলযোগপূর্ণ এলাকা অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন। দূতাবাস সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা আপনাদের সেবায় খোলা আছে এবং থাকবে। রাষ্ট্রদূতের ওই ভিডিও বার্তা দূতাবাসের অফিসিয়্যাল ফেসবুক পেজে প্রচার করা ছাড়াও বাংলাদেশিদের ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জার, হোয়ার্টসআপসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে এবং এর ব্যাপক রেসপন্স পাওয়া গেছে বলে দাবি দূতাবাস কর্মকর্তাদের। উল্লেখ্য, ইরাকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির ১৮টি প্রদেশে ছড়িয়ে থাকা ২ লক্ষাধিক বাংলাদেশী চরম আতঙ্কে সময় পার করছেন। হামলায় আক্রান্ত হতে পারেন এমন ভয়ে তারা সন্ত্রস্ত। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসস্থান এবং কর্মস্থল থেকে তাদের বের হওয়া বারণ করেছে বাগদাদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের তরফে এ সংক্রান্ত যে সতর্ক-বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে গত শুক্রবার তা এখনও বহাল আছে। ঢাকায় নিয়মিত রিপোর্ট পাঠিয়ে দূতাবাস তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির বিষয়ে সরকারকে অবহিত করছে। ইরাক জুড়ে সৃষ্ট অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি দূতাবাস অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছে জানিয়ে রিপোর্টে বলা হয়- ১৮টি প্রদেশে থাকা বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ চ্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। দূতাবাসে কর্মরতদের সব ধরণের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বাগদাদে থাকা বাংলাদেশি কূটনীতিক ও স্টাফরা তাদের চলাফেরা সীমিত করেছেন। ডিপ্লোমেটিক প্রটেকশনে তারা বাসা টু মিশন যাতায়াত করছেন। ঢাকার নির্দেশনা মতে, উত্তেজনপূর্ণ পরিস্থিতিতেও মিশনের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা রয়েছে জানিয়ে সেগুনবাগিচায় পাঠানো রিপোর্টে বলা হয়, পরিস্থিতির আপডেট পেতে দূতাবাস ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাগদাদ ভিত্তিক অন্যান্য দেশের মিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। জরুরি পরিস্থিতির উদ্ভব হলে বাংলাদেশিদের নিরাপদে সরিয়ে আনার তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে দূতাবাস প্রস্তুত বলেও জানানো হয়েছে।





