স্টাফ রিপোর্টার ॥ ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার হল এসির আউটডোর ইউনিটের ফাঁকে আটকে পড়া পোষা বিড়াল। আটকে থাকার ১৯ ঘণ্টা পর রবিবার সকাল ৯ টায় বিড়ালটিকে উদ্ধার করা হয়। বিড়ালটি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিড়ালের মালিক যশোর শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়ার জাকির হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগম। এ সময় শ শ লোক বিড়াল উদ্ধার দেখতে যশোর সদর হাসপাতালে ভিড় করেন। বিড়ালটির মালিক যশোর শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়ার জাকির হোসেন বলেন, ’দুই বছর আগে আমার স্ত্রী নাজমা এলাকার একটি ডোবা থেকে বাচ্চা অবস্থায় বিড়ালটিকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসে। বাড়ি আনার পর বিড়ালটিকে সাবান দিয়ে গোসল করিয়ে পরিষ্কার করা হয়। এরপর বিড়ালটি আমরা কোলে পিঠে করে বড় করি। সে আমাদের সাথে বিছানাতেই ঘুমাতো। বিড়ালটি আমাদের সন্তানের মতো। আমাদের একমাত্র ছেলে সাইফ সাদাত পড়াশোনার জন্য ঢাকায় থাকে। এ কারণে নিঃসঙ্গতায় আমাদের সঙ্গী ওই বিড়ালটি।
তার পেটে বাচ্চা থাকার কারণে গত শনিবার সকালে বিড়ালটিকে আমি ও আমার স্ত্রী পশু হাসপাতালে নিয়ে যাই ভ্যাকসিন দিতে। সেখান থেকে ফিরে দুপুর ১২টার দিকে যশোর সদর হাসপাতালের তিনতলায় পেয়িং ওয়ার্ডে যাই আমার এক আত্মীয় রোগী দেখতে। এ সময় বিড়ালটি আমার স্ত্রীর কোল থেকে নিচে নামে। কিছুক্ষণ পর তাকে খোঁজা শুরু করি। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে তাকে না পেয়ে বাড়ি চলে যাই। সকাল ৭ টায় এসে আবার তাকে খোঁজাখুঁজি করি। এক সময় হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের বিপরীতে এসির আউটডোর ইউনিটের ফাঁকে বিড়ালটিকে দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানাই। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে বিড়ালটিকে সেখান থেকে উদ্ধার করে আমার স্ত্রীর হাতে দেন’। বিড়াল হাতে পেয়ে জাকিরের স্ত্রী নাজমা বেগম আনন্দে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ’বিড়ালটিকে আমি ‘মা’ বলে ডাকি। বিড়াল ফেরত পাওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের লোকদের আমি ধন্যবাদ জানাই’। যশোর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, মানবতার জন্য আমাদের আসা। আমরা বিড়ালটিকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে মালিকের হাতে তুলে দিতে পেরে খুবই আনন্দিত।





