যথেচ্ছ ইটভাটা, মাটিবাহী ট্রাকে নষ্ট হচ্ছে চৌগাছার রাস্তাগুলো

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলো এ অঞ্চলের মানুষের যেন গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর মৌসুমের শুরুতে ভাটার অবিরাম ধোঁয়া পরিবেশ নষ্ট করছে। অপরদিকে ভাটার মাটিবাহী ট্রাকগুলোর লাগামহীন যাতায়াতে নষ্ট হচ্ছে উপজেলার রাস্তগুলো। কৃষি প্রধান উপজেলা হিসেবে খ্যাত যশোরের চৌগাছা উপজেলা। বছেরর বার মাসই মাঠের পর মাঠ কোনো না কোনো ফসলে জমিগুলো ভরে থাকে। এমন এক সময় ছিল কৃষক শুধু জৈব সার দিয়ে ফসল উৎপাদন করেছেন, কিন্ত সেদিন আর নেই। এর অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে ইটভাটা। এমনটিই মনে করছেন কৃষকসহ সচেতন মহল। বর্তমানে উপজেলাতে ১৭টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। চৌগাছা-যশোর সড়ক, চৌগাছা-পুড়াপাড়া,চৌগাছা-কোটচাঁদপুর,চৌগাছা-মহেশপুর, চৌগাছা-ঝিকরগাছা, গুয়াতলী-নারায়ণপুর,আফরা-সৈয়দপুর,দেবীপুর-নারায়ণপুরসহ বিভিন্ন রাস্তার পাশে শ শ বিঘা ফসলি জমি নষ্ট করে তৈরি করা হয়েছে ইটভাটা। চৌগাছা-যশোর সড়কের পাশে অবস্থিত তানজিলা অটো ব্রিকস। এই ভাটা তৈরির পর হতে ওই মাঠে এখন আর আগের মত ফসল উৎপন্ন হয় না বলে ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ। জানা গেছে, শুধুমাত্র তানজিলা ব্রিকসে মাটি কাটার জন্য অন্তত ২০ থেকে ২৫টি ট্রাক নিয়োজিত আছে। দিন রাত সারাক্ষণই তারা মাটি বহনে ব্যস্ত থাকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব ট্রাক বেপরোয়া গতিতে চলার কারণে প্রতিটি পাকা সড়কের পিচ উঠে মাটি বেরিয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার প্রতিটি ইটভাটা মৌসুম শুরুর আগে থেকেই মাটি সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। ভাটাগুলোতে পাহাড় সমান মাটি সংগ্রহ করা হয়েছে। এই মাটির বেশির ভাগই হচ্ছে ফসলি জমির মাটি এমনটি জানালেন এলাকাবাসী। গ্রামের সহজ সরল মানুষকে ম্যানেজ করে ভাটা মালিকরা ফসলি জমির উপরি ভাগের মাটি কেটে নিয়ে ভাটায় জমা করেছেন। এর ফলে জমির উর্বরাশক্তি বহুলাংশে কমে যাচ্ছে। এলাকাবাসী চৌগাছায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা ইটভাটার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। এ সকল ভাটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ভাগ