স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নে কর্মসৃজন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ৪০ দিনের এই কর্মসূচিতে হতদরিদ্রদের কাজের সুযোগ দিয়েছে সরকার। এই কাজে শার্শার নিজামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ২৪৪ জনের কাজের বরাদ্দ পেয়েছেন। অথচ তিনি কাজে লাগিয়েছেন মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ জনকে। সরেজমিনে দেখা যায় এই ইউনিয়নের বনমান্দার এলাকায় ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড মিলে মাত্র ২৪ জন হতদরিদ্র শ্রমিক কাজ করছেন। একই ইউনিয়নের বসন্তপুরে গিয়ে দেখা যায় ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড মিলে মাত্র ২২ জন এই কর্মসূচিতে কাজ করছেন। সূত্র জানায়, বাকি ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডেও মাত্র ২০ থেকে ২২ জন কাজ করছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বনমান্দার এলাকায় কর্মরত শ্রমিক জয়নাল আবেদীন, মোমেনা বেগম ও রেক্সোনা খাতুন বলেন, ‘আমাদের সারাদিন কাজ শেষে ২ শ টাকা করে দেয়ার কথা। অথচ দেয়া হচ্ছে ১৭৫ টাকা। বাকি ২৫ টাকার ব্যাপারে চেয়ারম্যান কালাম বলেছে এ টাকা ব্যাংকে আছে। কাজ শেষে পাওয়া যাবে।’ তবে অপর একটি সূত্র জানায়, গতবছর এই কাজের টাকা হতদরিদ্ররা পাননি। স্থানীয়রা জানান, কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা সরাসরি কৃষি ব্যাংক থেকে শ্রমিকদের উঠানোর কথা। কিন্তু ব্যাংকের সাথে আঁতাত করে কৌশলে চেয়ারম্যান আবুল কালাম নিজে টাকা উঠিয়ে শ্রমিকদের দিচ্ছেন। তারা অভিযোগ করেন, শ্রমিকরা ব্যাংকে গেলে মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ জনে টাকা পাবেন। আর বাকি ১৬০ থেকে ১৬৫ জনের টাকা ব্যাংকে জমা থাকবে। এ টাকা উঠানোর জন্য আবুল কালাম শ্রমিকদের ব্যাংকে যেতে দেন না। তিনি নিজে সকলকে ম্যানেজ করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে কর্মরত ৭০-৭৫ জন শ্রমিককে দেন। আর বাকি টাকা পকেটস্থ করেন। সূত্র মতে, হতদরিদ্র যেসব শ্রমিক কাজ করেন না অথচ তালিকায় নাম আছে, তারা চেয়ারম্যানের ভয়ে কিছু বলতে পারেন না। এ ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ডের হতদরিদ্র মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন কাজের অভাবে। অথচ তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪০ দিনের কাজ থাকা সত্বেও বেকার রয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কর্মসৃজন কাজে গ্রামের শ্রমিকদের কেউ কেউ মাঝে মধ্যে অনুপস্থিত থাকতে পারে। দরিদ্র হওয়ার কারণে তাদের দৈনিক মজুরি প্রদান করা হয়।’ তবে শ্রমিক জয়নাল আবেদীন বলেন, তিনি (চেয়ারম্যান) মিথ্যা কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. লাল্টু মিয়া বলেন, ‘দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





