যশোরে সকলের প্রিয় ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু আজ অবসরে যাচ্ছেন

বিএম আসাদ ॥ যশোরে সকলের প্রিয় ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ লিটু আজ (শনিবার) চাকরি থেকে অবসরে যাচ্ছেন। ৬৯ বছর বয়সে চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় অবসর নিচ্ছে তিনি। ১৯৬১ সালের ৫ জানুয়ারি যশোর শহরের ১২, গুরুদাস বাবু লেনস্থ (পাইপপট্টি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত কামাল উদ্দীন আহমেদ (কামাল মিয়া)। মাতা মৃত নুরজাহান বেগম পিতৃকুল ছিলেন চৌগাছার স্বরূপদাহ অঞ্চলের সাবেক জমিদার।
ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ ১৯৮৩ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। ১৯৮৮ সালে বিসিএস/পিএসসি পাস করেন। হাসপাতালে অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন, মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন আইএইচটি) এবং ২০১৮ সালের ৭ এপ্রিল যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে ঝিকরগাছা, চৌগাছা, যশোর স্কুল হেলথ কিনিক, যশোর জেনারেল হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার (এমও) পদে চাকরি করেন। তিনি চাকরিকালীন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন সঙ্গীত শিক্ষা একাডেমির উপদেষ্টা , মেডিসিন ব্যাংক যশোরের সদস্যসচিব রাইটস যশোরের সহ-সাধারণ সম্পাদক রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি, তির্যক যশোরের সহ-সভাপতি, যশোর শিল্পী গোষ্ঠী সভাপতি, যশোর ইন্সটিটিউটের পরিচালনা পরিষদের ৫ বার নির্বাচিত সদস্য ও নাট্য সম্পাদক তালবাড়ীয়া কলেজের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত রয়েছেন। চাকরি জীবনে ৩৬ বছর ১ মাস ২৬ দিন পূর্ণ করার পর যশের ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সফল তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আজ শেষবারের মতো অফিস শেষ করে তিনি অবসরে যাচ্ছেন। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালনকালে তিনি অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হন। কিন্তু সামাজিকতা ও জনপ্রিয়তার সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে তিনি তত্ত্বাবধায়ক পদে যোগদান রকতে সক্ষম হন। যোগদান করার পর তিনি হাসপাতালটিকে ঢেলে সাজিয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতায় নানামুখি উন্নয়ন কার্যক্রম করেন ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে হাসপাতালের নতুন অ্যাম্বুলেন্স, ক্যাশ কানন্টার স্থাপন, ১২৮ স্লাইসের সিটিস্ক্যান মেশিন, কালার ডপলার আল্ট্রাসনো, ডিজিটা এক্সরে, রোগী ও দর্শনার্থীদের রোগ সম্পর্কে সচেতন করার জন্য সাউন্ড বক্স চালু, তথ্য কেন্দ্র ও রিপোর্ট ডেলিভারি কেন্দ্র, বিডিও কনফারেন্স চালু, নার্সিং ইন্সটিটিউটকে গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তোলা, ফুলবাগান ও ভেষজ বাগান সুসজ্জিতকরণ, হাসপাতাল কমপাউন্ড এসির আওতায় আনা ও ৩য়তলা মূল ভবনকে ঊর্ধ্বমুখী ৪র্থতলা নির্মাণ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন। হাসপাতালের ৯ একর সম্পত্তি হারিয়ে যাওয়া ডকুমেন্ট দলিলপত্র উদ্ধার করেছেন তিনি।

ভাগ