খুলনার পাটকল শ্রমিকরা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাজপথে

মোঃ জামাল হোসেন, খুলনা ॥ ‘আমি শ্রমিকের সন্তান, আমার বাবা না খেয়ে মরতে বসেছে, আমার বাবাকে বাঁচাও’, ‘পিতার মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন চাই’, ‘স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করবো, সোনার বাংলা গড়বো’, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ, অনশনে শ্রমিক শেষ’, ‘বাবা অনশন করে, শিল্পমন্ত্রী কি আঙ্গুল চোষে’, ইত্যাদি শ্লোগান সম্বলিত প্লাকার্ড হাতে নিয়ে এবার খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিকরা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাজপথে নেমেছেন। শ্রমিকদের সাথে অনশনে যোগ দিয়েছেন তাদের স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যেতে অনড় রয়েছেন তারা। মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া বেতন পরিশোধসহ ১১ দফা দাবিতে খুলনায় অনশন কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকে দ্বিতীয় পর্যায়ের অনশন কর্মসূচি পঞ্চম দিনেও অব্যাহত রয়েছে। খুলনার প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, ইস্টার্ন, আলিম, ক্রিসেন্ট জুট, যশোরের জেজেআই, কার্পেটিং মিল শ্রমিকরা নিজ নিজ মিলগেটে এ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তবে স্টার জুটমিলের শ্রমিকরা খালিশপুর বিআইডিসি সড়কে কর্মসূচি পালন করছেন। শ্রমিকরা খুলনার নতুন রাস্তা মোড়ে অবস্থান নেওয়া যান চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, খুলনার সাতটি পাটকলে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। সবখানেই শ্রমিকদের মজুরি আট থেকে ১০ সপ্তাহ বকেয়া পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এ পরিস্থিতিতে তাদের জীবনযাপন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ সুপারিশ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ গ্রাচ্যুইটি ও মৃত শ্রমিকদের বিমার বকেয়া প্রদান, বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ী করা, পাট মৌসুমে পাট কেনার অর্থবরাদ্দ, উৎপাদন বাড়ানোর ল্েয মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করাসহ ১১ দফা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিল সরকার। কিন্তু দাবিগুলো এখনো বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাধারণ শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসেছেন। পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মুরাদ হোসেন বলেন, সাতটি পাটকলের প্রায় ২০ হাজার স্থায়ী শ্রমিক এ অনশনে অংশ নিয়েছেন। টানা অনশনে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা শরীরে স্যালাইন নিয়ে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। যতদিন দাবি না মানা হবে, ততদিন অনশন চলবে। উল্লেখ্য, শ্রমিকদের দাবি নিয়ে গত ১৫, ২২ ও ২৬ ডিসেম্বর তিন দফা বৈঠক হলেও তাতে কোনো সুফল আসেনি। সবশেষ ২৬ ডিসেম্বরের বৈঠকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের বিষয়ে কোন সুরাহা না হওয়ায় ওই দিন ২৯ ডিসেম্বর দুপুর থেকে আবারও অনশন করার ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা। সে অনুযায়ী শ্রমিকরা অনশন কর্মসূচি পালন করছেন।

ভাগ