অযত্ন অবহেলায় জৌলুস হারিয়েছে যশোর উপশহর শিশু পার্ক

0

ইমন হোসেন ॥ এক সময়ে যশোরের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র উপশহর শিশু পার্ক অযতœ অবহেলায় তার ঐতিহ্য ও জৌলুস হারিয়েছে। এখন এটাকে দেখলে আর পার্ক মনে হয় না। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন ৫ নং উপশহর ইউনিয়ন-এর চেয়ারম্যৗান অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবুর হাত ধরে পার্কটির যাত্রা শুরু হয়। এক সময় পার্কটির ভেতর কংক্রিটের তৈরি বনমানুষ, হরিণ, হাতি, সিংহ, উট, ক্যাঙ্গারু ছিল। যা দেখলে মনে হতো জীবন্ত প্রাণী। সবুজ গাছ গাছালিতে ভরা একটি নয়নাভিরাম উদ্যান। পাশে ছিল প্রশস্ত একটি দিঘি। দিলির মাঝে একটি ব্রিজ। সংস্কারের অভাবে এখন সেটি পরিত্যক্ত। হাতির সুড়টা ভেঙে গেছে অনেক কআগেই। হরিণটি ভেঙে উধাও হয়ে গেছে। উট আছে মাথা নেই, বেঞ্চগুলো বসার অযোগ্য। বনমানুষটির পা ভেঙে হেলে পড়েছে। তবু আশার কথা যে, উদ্যান এবং দিঘির কারণে এলাকাবাসী এখনও বিকেলে অবকাশ যাপনের জন্যে ভিড় করেন। অবসর সময় কাটাতে আসা এক ব্যক্তির কাছে পার্কটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে রয়েছে কোলাহলমুক্ত সুন্দর পরিবেশ। একটি উন্নয়ন ও সংস্কার করা হলে বৃহত্তর যশোরের একটি আকর্ষণীয় বিনোদন স্পট হিসেবে গড়ে উঠতো। এ ব্যাপারে ৫ নং উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহছানুর রহমান লিটুর সাথে কথা বললে তিনি জানান, পার্কটি হাউজিং এস্টেট-এর আওতাভুক্ত। তিনি ১ কোটি টাকা বাজেট প্রস্তাব করেছেন পার্কের উন্নয়নের জন্যে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাউজিং এস্টেটের একজন কর্মকর্তা বলেন, পার্ক নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন পরিকল্পনা নেই। তবে উপশহর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। যে বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে পার্কটির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. সাবেরুল হক সাবু জানান ১৯৬০ সালের পরে হাউজিং এস্টেট পার্ক বা বিনোদন স্পর্ট হিসাবে কিছু জমি বরাদ্দ দেয়। ১৯৯২ সালে তিনি চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর ১৯৯৬ সালে বিভিন্ন মানুষের অনুদানে এখানে পার্কের বিভিন্ন উপকরণও এক ব্রিজ তৈরির করেন। এ সময় তিনি এখানে নানা প্রজাতির গাছও রোপণ করেন। ১৯৯৩ সালের আগে এখানে ধান চাষ, আলু চাষ ইত্যাদি হজতো। পরবর্তীতে পার্ক হওয়ার ফলে এখানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বাসে করে পিকনিক করতে আসতো। তার মতে, মানুষ সৌন্দর্যপ্রিয়,। সকলেরই কাজের পাশাপাশি বিনোদনেরও দরকার আছে। তাই আজ যারা এর দায়িত্ব আছেন তাদের সকলের পার্কটির জন্য এগিয়ে আসতে হবে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পার্কটি তার জৌলুস ফিরে পাক। শিশুদের নিরাপদ ঠিকানা হোক উপশহরের ঐতিহ্যবাহী এই পার্কটি।