বাম জোটের মিছিলে পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটা, সাকিসহ আহত ৩৬

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বাম গণতান্ত্রিক জোটের মিছিলে দুই দফা বেধড়ক লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। এতে গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ সাকিসহ কমপে ৩৬ জন আহত হয়েছেন। সোমবার বেলা ১টার দিকে হাইকোর্টের কাছে কদম ফোয়ারা ও মৎস্য ভবনের মোড়ে দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। একাদশ জাতীয় সংসদের বর্ষপূর্তিতে আটটি বাম দলের এই জোট গতকাল ‘গণতন্ত্রের কালো দিবস’ পালন উপলে জাতীয় প্রেসকাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ শেষে দুপুর পৌনে ১টার দিকে তারা মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে রওনা হন। হাইকোর্টের কাছে কদম ফোয়ারার সামনে পুলিশের প্রথম বাধার মুখে পড়ে মিছিলটি। ব্যারিকেড ভেঙে মিছিলটি সামনের দিকে এগোতে থাকে। ওই সময় পুলিশ জোটের মিছিলে লাঠিপেটা করে। পুলিশের বাধা উপো করে মিছিলটি সামনের দিকে এগোলে দুপুর ১টার দিকে মৎস্য ভবনের সামনে দ্বিতীয় ব্যারিকেডের সামনে পড়ে। এ সময় পুলিশের ধাওয়া ও লাঠিপেটায় মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ সাকিসহ কমপে ৩৬ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজন নারী নেতাকর্মীও রয়েছেন। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করছে এই জোট। কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা। এই জোটে রয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ (মার্ক্সবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সিপিবি নেতা ক্বাফী রতন সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের হামলায় জোটের নেতা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকীসহ ২৫-২৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তারা সবাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় প্রেসকাবের সামনে বিােভ সমাবেশ ডেকেছে গণতান্ত্রিক বাম জোট। এবিষয়ে ডিএমপি রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা তাদের (বাম জোটের নেতাদের) অনুরোধ করেছিলাম যেন ব্যারিকেড না ভাঙে। কিন্তু তাদের নেতা-কর্মীরা কথা শোনেননি। তারা প্ল্যাকার্ডের সঙ্গে থাকা লাঠি ও বাঁশ দিয়ে পুলিশের উপর হামলা করে। “পরে আমাদের পাঁচ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হয়েছেন দুজন। আমরা অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি। পরে আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি।” রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা চার পাঁচ জনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছি। ভিডিও ফুটেজ দেখে আমরা ব্যবস্থা নেব।” মিছিল থেকে যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আনোয়ার সজ্জন ও ছাত্র ইউনিয়ন নেতা জুবায়ের আহম্মেদ সজল, তেমজুর সমিতির কর্মী ওয়াহিদুজ্জামান ও বাসদের কর্মী তামিমকে পুলিশ আটক করেছে বলে ক্বাফী রতন জানান।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৫৮ আসনে জয় পেয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে মতায় আসে আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যান করে বাম জোট। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও ওই নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ তোলে। নির্বাচনের বছরপূর্তির দিনটি ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়ে গতকাল সোমবার জেলায় জেলায় কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি করা হয় বাম জোটের প থেকে। সে অনুযায়ী সোমবার সকালে ঢাকায় জাতীয় প্রেস কাবের সামনে বিােভ সমাবেশে মিলিত হন বাম জোটের নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা স্লোগান ধরেন- ‘স্বৈরাচারের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’। সমাবেশ শেষে বাম জোটের নেতাদের কালো পতাকা মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে রওনা হয়। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাম গণতান্ত্রিক জোটের নতুন সমন্বয়ক আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু সমাবেশে অংশ নেন। সমাবেশে সিপিবি সভাপতি বলেন, ‘ভুয়া নির্বাচনের’ মাধ্যমে যে সরকার মতায় বসে আছে, তাকে ভুয়া সরকার ছাড়া আর কিছু বলে আখ্যা দেওয়া যায় না। ‘গণআন্দোলনের’ মুখে সরকারের পতন ঘটিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ‘বিকল্প সরকার’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সাইফুল হক বলেন, বিরোধী দলকে দমন করতে সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস লেলিয়ে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের মৃত্যু হয়েছে; নৈতিক পরাজয় হয়েছে। চরমপন্থী রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে এ দল। বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘বিশ্ববেহায়া’ আওয়ামী লীগ সরকারকে মতা থেকে নামানোই এখন প্রধান রাজনৈতিক কর্তব্য। ক্ষমতার মসনদ থেকে যত দ্রুত তাদের নামানো যাবে, ততই দেশের জন্য মঙ্গল।