শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ যশোরে ডিসেম্বরে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারিং পদ্ধতি চালু হয়নি। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন বছরের জানুয়ারি মাসের শেষে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। বলা হচ্ছে, প্রি-পেইড মিটার ব্যবস্থায় বিদ্যুতের সিস্টেম লস কমবে, বিদ্যুৎ বিল শতভাগ আদায় হবে এবং গ্রাহক সেবার মান উন্নয়ন হবে। যদিও এ ব্যবস্থায় গ্রাহককে আগাম বিদ্যুৎ কিনতে হবে। যশোরে এখনও প্রি-পেইড মিটার পদ্ধতি চালু না হলেও পাশর্^বর্তী খুলনা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যেই গ্রাহকরা এর ব্যবহার শুরু করেছেন। তবে এই পদ্ধতি চালু হওয়ার পর বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার অভিযোগে গ্রাহকরা যে ভোগান্তিতে পড়েছেন তা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। এ কারণে যশোরের মানুষ প্রি-পেইড মিটার সরবরাহের আগেই বিদ্যুৎ লাইনে ত্র“টি থাকলে তা মেরামতের দাবি জানাচ্ছেন, যাতে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি- ওজোপাডিকো’র যশোরের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন ডিসেম্বরে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার পদ্ধতি চালু হবে। কিন্তু ডিসেম্বর মাস চলে গেলেও এখনও এর কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। ওজোপাডিকো যশোরের পরিচালন ও সঞ্চালন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং প্রি-পেই্ড মিটার কার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক শহিদুল আলম লোকসমাজকে জানান, ‘জানুয়ারির শেষেই যশোরে নতুন প্রি-পেইড মিটার সরবরাহের কাজ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুতের সকল গ্রাহককে অফিস থেকে নতুন মিটার সরবরাহ করে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। সিঙ্গেল ফেজ মিটার প্রতিটি ৬ হাজার টাকা দাম ধরা হয়েছে এবং প্রতি মাসে গ্রাহকের ৪০ টাকা করে ভাড়া কাটা হবে। আর থ্রি-ফেজ মিটারের দাম ধরা হয়েছে ১৭ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে গ্রাহকের ভাড়া কাটা হবে ২৫০ টাকা।’ প্রতি মাসে ভাড়া কাটা বাবদ মিটারের দাম পরিশোধ হবে কিনা-জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে তিনি পরবর্তীতে সরকার সিদ্ধান্ত নিবে বলে জানান। তবে তিনি জানান, মিটারের সবরকম ত্র“টি বিনামূল্যে ঠিক করে দেওয়া হবে।
এদিকে বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারে গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। বর্তমান পোস্ট পেইড মিটার থেকে প্রি-পেইডে বিদ্যুতের বিল বেশি আসছে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুল আলম জানান, ‘আমরা পরীা করে এখনও কোনো ধরনের ত্র“টি পাইনি।’ তিনি আরও জানান, প্রি-পেইড মিটারের কার্ড তাদের অফিস ছাড়াও ব্যাংক ও শহরের বিভিন্ন স্থানে ভেন্ডিং স্টেশনে রিচার্জ করার সুবিধা থাকবে। এদিকে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা বলছে, প্রি-পেইড মিটারে বিদ্যুৎ সরবরাহের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগেই গ্রাহক বিল পরিশোধ করে থাকেন। ফলে মিটার রিডিং, বিল প্রণয়ন এবং আদায়ে কোনো ঝামেলা থাকে না। এই পদ্ধতিতে গ্রাহক অনুমোদিত লোডের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারেন না। এতে বিদ্যুৎ চুরি ও সিস্টেম লসের পরিমাণ কমে আসে। যে কোনো সময় গ্রাহক দেখতে পারবেন তার কত বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে আর কতটুকু অবশিষ্ট আছে। গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহার অনুযায়ী মিটার থেকে টাকা কাটা যাবে। এক মিটারের কার্ড দিয়ে অন্য মিটার রিচার্জ করা যাবে না। কারণ প্রতিটি কার্ড একটি নির্দিষ্ট মিটারের সাথে সংযুক্ত করা আছে। গ্রাহকদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন বা অন্যান্য বিশেষ ছুটির দিন মিটারে টাকা না থাকলেও মিটার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করবে না। টাকা একেবারে শেষ হয়ে গেলেও সন্ধ্যা ৬ টা থেকে পরদিন সকাল ১০ টা পর্যন্ত মিটার চালু থাকবে। এই সময়ের মধ্যে মিটার রিচার্জ করতে হবে। মিটারে এই সময় যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে মিটার তা নেগেটিভ হিসেবে জমা রাখবে এবং পরবর্তীতে মিটার রিচার্জ করা হলে ব্যালেন্স থেকে কেটে নিবে। গ্রাহকের ডিমান্ড চার্জ, মিটারের ভাড়া এবং ভ্যাট এই তিনটি হিসেব প্রতিমাসে একবার কেটে নেয়া হবে।
অপরদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী পাশর্^বর্তী জেলা খুলনায় বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার পদ্ধতি চালু হওয়ার পর গ্রাহকরা ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আগের পোস্ট পেইড থেকে প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারে খরচ দ্বিগুণ বেড়েছে, বিলও বাড়ছে। সেখানে প্রি-পেইড মিটারে বিদ্যমান দুর্নীতি প্রতিরোধে সংগ্রাম কমিটি গড়ে উঠেছে। তারা বলছেন, সেবার নামে জনগণকে প্রতিনিয়ত হয়রানি করা হচ্ছে। তাছাড়া মিটার লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রথম রিচার্জে সঠিক বিল এলেও পরবর্তী মাস থেকে শুরু হয় অধিক বিলের ভোগান্তি। এসব খবরে যশোর শহরের বিদ্যুতের কয়েকজন গ্রাহক আগাম আশঙ্কার কথা প্রকাশ করলেন। লোন অফিস পাড়ার বাসিন্দা গোলাম তাহের এ প্রসঙ্গে বলেন, বিদ্যুতের লাইনে আগে থেকে ত্র“টি থাকলে বা সিস্টেম লসের কারণে যাতে বিলের পরিমাণে তারতম্য না ঘটে সে ব্যাপারে যশোর ওজোপাডিকোকে নতুন প্রি-পেইড মিটার সরবরাহের আগেই তা মেরামত করে দিতে হবে।





