৩০ ডিসেম্বর বিএনপির নয়, গণতন্ত্রের পরাজয় হয়েছে : অমিত

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে গণতন্ত্র হত্যা দিবসের প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পরাজয় হয়নি। পরাজয়বরণ করেছে দেশের গণতন্ত্র ও আওয়ামী লীগ। যে কারণে আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের গৌরব উজ্জ্বল অতীত দাবি করলেও ৩০ ডিসেম্বরের পর থেকে সেই দলের কোন নেতা-কর্মী জোর গলায় কথা বলতে পারে না। মাথা উঁচু করে হাঁটতে পারে না। আর সেই নির্বাচনের পর মুক্ত হয়নি, দেশের গণতন্ত্র মুক্ত হয়নি সর্বোপরি জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার। যে কারণে সীমান্তে বন্ধ হয়নি মানুষ হত্যা। পাল্টা সীমান্তে প্রতিবেশী দেশে রাডার বসিয়েছে। আর কত নির্লজ্জ হলে আওয়ামী লীগ সেই নির্বাচনে জনগণের ভোট ডাকাতি করে নিশি রাতের সরকার হয়ে ৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালন করে।
গতকাল সোমবার জেলা বিএনপির আয়োজনে বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের হত্যা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব কথা বলেন। সমাবেশে অমিত আরও বলেন, সরকারের পাতানো সাজানো সেই নির্বাচনে একজন প্রার্থী হিসেবে আমিও নিরাপদ ছিলাম না। আমার ওপর একাধিকবার সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। আমার প্রধান এজেন্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানসহ নেতা-কর্মীদের ওপরও সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছিল। তাদেরকে কোনো কারণ ছাড়াই আটক করেছিল সেদিনের সেই পুলিশ ও যৌথবাহিনী। ধানের শীষে ভোট চাওয়ার অপরাধে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমার নেতা-কর্মীর বাড়ি ঘরে আগুন দেয় এবং লুটপাট চালায়। মহিলা ও শিশুদের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখায় ভোটের মাঠে না যাওয়ার জন্য। সেই নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত জীবন বাজি রেখে আমি নির্বাচনের মাঠে ছিলাম। আমরা কোনোদিন ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করি না, জনগণের জন্য রাজনীতি করি। সেইদিন যেমন নির্বাচনের মাঠ ছাড়িনি। তেমনি রাজপথও ছাড়িনি। যতদিন দেশে গণতন্ত্র আইনের শাসন সর্বোপরি জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত না হবে ততদিন রাজপথ ছাড়বো না। তিনি আরও বলেন, যার ঘোষণায় ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীন সার্বভৌম একটি ভূখন্ডে অর্জন করে। সেই স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরী। তারেক রহমানের ঘোষণায় একটি দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে পতন হবে এই স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের। আজকে জনগণের ওপর যে দমন নিপীড়ন অত্যাচার নির্যাতন চলছে। এ থেকে মুক্তির প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন কারাবন্দী দলের চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জনগণ মনে করে মুক্ত বাতাসে বেঁচে থাকার পথ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। তারা চাই পরিবর্তন। তাই একটি দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূর-উন-নবী, সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম, নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল বাশার শাহিন, জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিদা রহমান, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মকবুল হোসেন, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল হোসেন বাবুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সাল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর প্রমুখ। প্রতিবাদ সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল। এর আগে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা কৃষক দল আয়োজিত কৃষক দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এতে জেলা কৃষক দলের সভাপতি হাসান সালেহার সভাপতিত্বেও সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মকবুল হোসেনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর প্রমুখ। পরে আলোচনা সভা শেষে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মোনাজাত করা হয়।