‘আমার লাইসেন্স নাই’

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো ঘ ১১-৬৭৬০) রং দিয়ে ‘আমার লাইসেন্স নাই’ সহ বিভিন্ন মন্তব্য লিখে দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর ধানমন্ডির ২ নম্বর রোডে সিটি কলেজের পশ্চিম পাশে গাড়িটির কাগজপত্র না পেয়ে ওই গাড়িটিতে লেখা হয় নানান মন্তব্য। নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা ও দুই সতীর্থকে বাসচাপায় ‘হত্যার’ বিচারসহ নয় দফা দাবিতে বৃহস্পতিবারও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্স আছে কিনা, তল্লাশি চালান। শিক্ষার্থীদের তল্লাশি থেকে বাদ যায়নি সরকারি সংস্থাগুলোর যানবাহনও। গাড়ির কাগজপত্র ঠিক না পেয়ে অনেক সরকারি গাড়িতে তারা নানা মন্তব্য লিখে দেয়। ধানমন্ডির ২ নম্বর রোডে সিটি কলেজের পশ্চিম পাশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি গাড়ির কাগজপত্র না পেয়ে লেখা হয় অনেক মন্তব্য।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাজেরো গাড়িটি (নং- ঢাকা মেট্রো ঘ ১১-৬৭৬০) ধানমন্ডির ২ নম্বর সড়কে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা সেটা আটক করে কাগজপত্র তল্লাশি করে। কিন্তু চালক তার নিজের ও গাড়ির কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এরপর পুরো গাড়িতে রং দিয়ে শিক্ষার্থীরা নানা মন্তব্য লিখে দেন। মন্তব্যগুলো হচ্ছে ‘লাইসেন্সবিহীন চোরাই গাড়ি’, ‘চোরাই গাড়ি’, ‘আমার লাইসেন্স নাই’, ‘আমি চোর’, ‘নয় দফা দাবি মানতে হবে’ ইত্যাদি। এছাড়াও পুরো গাড়িতে ‘অপরাধী’ ও ‘চোর’ শব্দটি লিখে দেওয়া হয়। শাহবাগে বিজিবির একটি বড় ট্রাকের পিছনে লিখে দেওয়া হয় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। গত রবিবার (২৯ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিমানবন্দর সড়কের র‌্যাডিসন হোটেলের বিপরীতে কালশী থেকে বিমানবন্দরগামী জাবালে নূর পরিবহনের একাধিক বাস প্রতিযোগিতা করে যাত্রী তুলতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। এতে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল করিম রাজু নিহত হন। আহত হন অন্তত ১২-১৩ জন শিক্ষার্থী। এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার তাদের এ আন্দোলনের পঞ্চম দিন।

ভাগ