মনিরামপুরে নগদ টাকা মাদকসহ ১০ জুয়াড়ি আটক

স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর)॥ অবশেষে পুলিশ যশোরের মনিরামপুরে চন্ডিপুর গ্রামের সেই জুয়ার আসরে হানা দিয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে পুলিশ ওই জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে বোর্ডের প্রধান সমন্বয়ক ইউপি সদস্য যুবলীগ নেতা মাহাবুবুর রহমান সহ ১০ জুয়াড়িকে আটক করে। এসময় সেখান থেকে পুলিশ নগদ প্রায় ছয়লাখ টাকা, আট লিটার চোলাই মদ ও জুয়া খেলার সরঞ্জামাদী জব্দ করে। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদি হয়ে আটককৃতদের বিরুদ্ধে জুয়া ও মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দিয়ে বুধবার দুপুরে তাদেরকে আদালতে চালান দেয়। এ দিকে জুয়ার বোর্ডে পুলিশের হানা ও জুয়াড়িদের গ্রেফতারের খবরে এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামে ইউপি সদস্য ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান এবং আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে ওই গ্রামের একটি বাশবাগান, সাইফুল ইসলামের বাড়ি, আব্দুল গফফারের পরিত্যক্ত বাড়ি, শেখপাড়ার একটি বাড়িসহ অন্তত ১০ টি স্থানে রাত-দিন জমজমাট জুয়ার আসর চলে আসছিল। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ সব আসরে যোগ দিয়ে আসছিলো মনিরামপুর, কেশবপুর, ঝিকরগাছা, সাতক্ষীরার কলারোয়া, খুলনাসহ সহ বিভিন্ন দুর দুরান্তের জুয়াড়িরা। অভিযোগ রয়েছে এসব আসরে জুয়ার পাশাপাশি মাদকদ্রব্য সেবন ও বেচাকেনা হয়ে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে পতিতা এনেও ফুর্তি করা হতো সেখানে। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় রাজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির কতিপয় সদস্যদের ম্যানেজ করে এ আসর চলে আসছিল। ফলে জুয়াড়ি এবং মাদকসেবিরা দিন দিন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। যে কারনে এলাকায় ছিনতাই, চুরি সহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। স্থানীয় আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী জানান, এ সব জুয়ার আসরের খবর এলাকার সবার জানা থাকলেও যুবলীগ নেতা মাহাবুবুর রহমান ও তার অনুসারীদের ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শাসছুল হক মন্টু জানান, জুয়ার আসর বন্ধ করতে বার বার পদক্ষেপ নিলেও মাহাবুবের কারনে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, মাহাবুবুর রহমানের নেতৃত্বে চলে আসছিল এসব আসর। তবে রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বানি ইসরাইল দাবি করেন, তিনি প্রায় এক বছর যোগদান করেছেন, তবে এ জুয়ার আসরের কোন খবর তিনি জানতেন না।
মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শেখ মনিরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মনিরামপুর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আশেক সুজা মামুনের নেতৃত্বে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে চন্ডিপুর গ্রামের শেখপাড়ার একটি বাড়িতে চলা জুয়ার আসরে অভিযান চালানো হয়। তবে রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রর কোন সদস্যকে এ অভিযানে নেওয়া হয়নি। অভিযানের সময় সেখান থেকে আটক করা হয় জুয়ার আসরের প্রধান সমন্বয়ক ইউপি সদস্য যুবলীগ নেতা মাহাবুবুর রহমানসহ ১০ জুয়াড়িকে। অন্যরা হলো চন্ডিপুর গ্রামের রোস্তম আলী ছেলে আবদুল হামিদ, হানুয়ার গ্রামের ইয়ামিন সরদারের ছেলে আবদুস সালাম, মনিরামপুর পৌরশহরের মোহনপুর পশ্চিমপাড়ার মুজিবুর রহমানের ছেলে রিপন, মহসীন সরদারের ছেলে লিটন, ঝিকরগাছা উপজেলার জাফরনগর গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে সোহাগ হোসেন, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কলাটুপি গ্রামের ইব্রাহীম গাজীর ছেলে রফিকুল ইসলাম, যশোর সদর উপজেলার পাগলাদাহ গ্রামের মোজাহার বিশ্বাসের ছেলে শহিদ বিশ্বাস,পালবাড়ী এলাকার জামাত আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম এবং খুলনা সদর উপজেলার বাঘমারা গ্রামের নরেশ রায়ের ছেলে স্নেহাংশু রায়। এ সময় ওই আসর থেকে জব্দ করা হয় নগদ পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার ৩১০ টাকা, আট লিটার চোলাই মদ ও জুয়া খেলার সরঞ্জামাদি। এ ব্যাপারে এসআই আবদুল হান্নান বাদি হয়ে আটককৃততের বিরুদ্ধে জুয়া ও মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করা হয়। বুধবার দুপুরে তাদেরকে আদালতে চালান দেওয়া হয়।