চৌগাছায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ

 

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছা ৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে হঠাৎ করেই বেড়েছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা। প্রতি দিনই বাড়ছে রোগী। রোগীর চাপে চিকিৎসা দিতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। বুধাবর দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় ২৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। আর চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ২৬ শিশুকে। ঠান্ডাজনিত কারণে শিশুরা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানান চিকিৎসকরা।
চৌগাছা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড থেকে শুরু করে বাইরের বারান্দা এখন ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু ও তাদের অভিভাকদের ভিড়ে একাকার। দিন যাচ্ছে বাড়ছে রোগী। দুই মাস থেকে শুরু করে দেড় বছরের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে বেড সংকটে অনেক অভিভাবককে ফ্লোরে শিশু নিয়ে অবস্থান করতে হচ্ছে। আর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের রাখা হয়েছে দুই ভবনের মাঝখানে যাতায়াতের জন্য স্থানে। প্রতি ঘন্টায় একজন করে শিশু ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। অসুস্থ ছোট শিশুদের নিয়ে অভিভাকরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
বুধবার দুপুরে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সর্বত্রই শিশু রোগী ও তাদের অভিভাবকদের ভিড়ে একাকার। কেউ সন্তানকে ডাক্তার দেখাচ্ছেন, কেউ বা ভর্তির কাগজ নিয়ে সন্তানকে ভর্তি করতে ছুটছেন, কেউ যাচ্ছেন ওষুধ কিনতে আবার কিছুটা সুস্থ সন্তানের ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিচ্ছেন অনেকে। এসময় শিশু ওয়র্ডে গিয়ে দেখা গেছে, বেশি অসুস্থ শিশুদের ভর্তি করে তার পিতা বা মা সন্তানকে বুকে আগলে বসে আছেন। ভর্তি হওয়া শিশুরা হলো, উপজেলার খড়িঞ্চা গ্রামের দুই মাস বয়েসের শিশু ফাতিমা খাতুন, দক্ষিণ সাগর গ্রামের শিশু মাসুরা খাতুন (৭মাস), শাহাপুর গ্রামের শিশু মাইনুল ইসলাম (৬মাস), জামলতা গ্রামের শিশু মাহমুদ (১৩ মাস), মন্মতপুর গ্রামের শিশু আবু বকর (১৫ মাস), ইলিশমারি গ্রামের শিশু আয়াতুন নেছা (৯ মাস), বেলেমাঠ গ্রামের নাজিফা (৪) ও মোঃ সিজান (১২ মাস), মুক্তদাহ গ্রামের শিশু আবরার হোসেন (১২ মাস) ও তৌহিদ হোসেন (৭মাস), আড়শিংড়ি পুকুরিয়া গ্রামের মেহেদী হাসান (১৪ মাস)। অভিভাবক আব্দুস সালাম, সেলিম হোসেন, রাফেজা বেগম, রিনা খাতুন বলেন, গত কয়েক দিনের প্রচন্ড ঠান্ডায় শিশুরা প্রথমে সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হয়। এরপর দেখা দেয় ডায়রিয়া, আবার অনেক শিশুর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। প্রথম দিকে বাড়িতে চিকিৎসা দিয়ে কোন উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. চন্দনা বলেন, মূলত ঠান্ডায় শিশুরা ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে যে শিশুর সমস্য কিছুটা বেশি তাদেরকে ভর্তি করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুকে কোন ক্রমেই ঠান্ডা লাগানো যাবেনা, যতদূর সম্ভব শিশুকে গরমে রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আল ইমরান বলেন, বর্তমান সময়ে কখনও গরম আবার কখনও ঠান্ডা। এই আবহাওয়াতে শিশুদের শ্বাসতন্ত্রে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তখনই দেখা দিচ্ছে নিউমোনিয়া। একই ভাবে আবহাওয়ার কারণে শিশুরা রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পাতলা পায়খানা হচ্ছে। মূলত ৩ থেকে ৫ দিন পরে শিশুরা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠে।