আড়াই মাসেও যশোরে সংগ্রহ হয়নি এক ছটাক আমন ধান !

আকরামুজ্জামান ॥ আড়াই মাসে এক ছটাক ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি যশোর খাদ্য বিভাগ। জেলার ৮ উপজেলায় আমন মৌসুমের ধান সংগ্রহ অভিযান শেষ হবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি। গত ১৭ নভেম্বর থেকে সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও জেলার কোনো উপজেলা থেকে ধান ক্রয় করা সম্ভব হয়নি বলে খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। বাজার দরের তুলনায় সরকারি দাম কম থাকায় কৃষকরা খাদ্য গুদামে ধান বিক্রিতে আগ্রহী না হওয়ায় এ পরিস্থিতি হয়েছে বলে খাদ্য বিভাগের মাঠ কর্মকর্তারা জানান। তবে ধান সংগ্রহ করতে না পারলেও সিদ্ধ চাল সংগ্রহে যশোর অনেকটা এগিয়ে আছে বলে জানান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক।
জেলা খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে যশোর জেলার আমন সংগ্রহ অভিযানে ১৪ হাজার ৯৯৭ টন ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে ধান ৪ হাজার ৯৯৮ ও ৯ হাজার ৯৯৯ টন সিদ্ধ চাল। কেজিপ্রতি ধানের দাম ২৮ টাকা ও চালের দাম ৪২ টাকা ধরা হয়। ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ সংগ্রহ অভিযান চলবে।
বুধবার জেলা খাদ্য অধিদপ্তরে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সংগ্রহ অভিযানের আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত জেলার ৮ উপজেলার কোনো খাদ্য গুদামে এক কেজি ধানও সংগ্রহ হয়নি। তবে এ সময়ে চাল সংগ্রহ হয়েছে ৫ হাজার ২৭২ টন ৪৯০ কেজি। যা মোট সংগ্রহের ৬৫ শতাংশ বলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর দাবি করছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ধান সংগ্রহের ব্যাপারে পুরোপুরিই আশা ছেড়ে দিয়েছে দপ্তরটি। কারণ সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় সংগ্রহ অভিযান শুরুর দিকে কৃষকরা তাদের ধান বিক্রি করে ফেলেছে। যে কারণে এই মুহুর্তে কোনো কৃষকের ঘরে কোনো ধান নেই। কৃষক এই মুহুর্তে বোরোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। এসব কারণে ধান ক্রয় করার কোনো সুযোগ নেই খাদ্য অধিদপ্তরের। এজন্য তারা যুক্তিবদ্ধ চালকল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
জেলা খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, চলতি আমন মৌসুমে ৮ উপজেলায় ১৯৭ টি চাল কলের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেও এখনও পর্যন্ত অনেক চালকল থেকে খাদ্য গুদাম গুলোতে চাল সরবরাহ করা হয়নি। সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি চাল ৪২ টাকা নির্ধারন করা হলেও বাজারে এই মুহূর্তে মোটা চাল ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থায় মিলাররা চাল দেয়া নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। খাদ্য বিভাগ থেকে প্রতিনিয়ত তাদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে চাল দেয়ার জন্য।
এ বিষয়ে যশোর খাদ্য অফিসের সাথে চুক্তিবদ্ধ কয়েকজন মিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাজারে ধান ও চালের দামের সাথে সরকার নির্ধারিত দামের বিস্তর পার্থক্য হওয়ায় আমরা বড় ধরণের সংকটে আছি। একদিকে বিদ্যুতের দাম বেশি, সাথে শ্রম খরচ বেড়েছে সেই সাথে বাড়তি দামে ধান কিনে চাল বানিয়ে তারপর কেজি দাম সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২ থেকে ৩ টাকা বেশি পড়ছে। এতে পুঁজি বাঁচছেনা বলে তারা জানান। মিলাররা জানান, তারা খাদ্য বিভাগের কাছে বারবার দাবি করে আসছে সরকার নির্ধারিত সংগ্রহ মূল্যে একটু বাড়িয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু সে বিষয়ে কোনো আগ্রহ না দেখিয়ে আমাদেরকে চাল দিতে চাপ দেয়া হচ্ছে। অন্যথায় লাইসেন্স বাতিল করা হবে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুন্ডু বলেন, বাজারে ধানের দাম আর সরকারের সংগ্রহের দামের মধ্যে পার্থক্য থাকায় আমরা আপাতত ধান সংগ্রহের বিষয়ে আশাবাদি হচ্ছিনা। তবে আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি চাল নিয়ে মিলারদের সাথে যে চুক্তি রয়েছে সে চুক্তি অনুযায়ী আমরা চাল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করতে পারবো। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে জেলায় ৫২৭২ দশমিক ৪৯০ টন চাল সংগ্রহ হয়েছে। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৬৫ শতাংশ। বাকি এক মাসের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী শতভাগ চাল সংগ্রহ করতে পারবো বলে আশা করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিলাররা লাভ করতে পারছেন না যেটা বলছেন, সেটি সঠিক নয়। তারা বাজারে চাল বিক্রি করেন বাকিতে। অথচ আমাদের কাছে সকালে চাল দিলে বিকেলে টাকা পেয়ে যাচ্ছেন। এর চেয়ে বড় সুবিধা আর হতে পারেনা। তাছাড়া তারা যেহেতু আমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ সে কারণে নির্ধারিত সময়ে খাদ্যগুদামে তারা চাল সংগ্রহ করবে বলে আশা করছি। আর এর ব্যতয় ঘটলে যারা চাল দিতে পারবেনা তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।