সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে তেঁতুলতলা-নলডাঙ্গা সড়কের নারিকেল গাছ

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ॥ অপরূপ সৌন্দর্য্য কে না উপভোগ করতে চান ? মানুষ, পশু-পাখিসহ সৃষ্টিকুলের সবাই বসবাস ও ঘোরাঘুরির উপযুক্ত পরিবেশ খোঁজে। নয়নাভিরাম দৃশ্য হৃদয়ের রক্তক্ষরণ বন্ধ করে মুগ্ধতা ছড়ায়। বিচ্ছিন্ন হৃদয় জোড়া লাগে। পাথর হৃদয়েও ঘর বাঁধে ভালোবাসা। ঝিনাইদহে এমন মুগ্ধতা ছড়ানো সড়ক হচ্ছে তেঁতুলতলা থেকে নলডাঙ্গা রাস্তা। বর্তমান সড়কটি আলোচনায় এসেছে প্রশস্ত পিচের রাস্তা ও সারি সারি নারিকেল গাছের কারণে।
নলডাঙ্গা সড়কের সবুজ নারিকেল গাছ প্রশস্ত রাস্তাটিতে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। তাইতো বিকেল হলে শহরের মানুষ সজিব নিঃশ্বাস আর গ্রামীণ পরিবেশকে উপভোগ্য করে তুলতে ছুটে যান ঝিনাইদহ শহর থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরে নলডাঙ্গা সড়কে। ছায়াবিথী সবুজ মাঠ আর নির্জন প্রকৃতি প্রেমিক হৃদয়কে যুগলবন্দি করতে মোটেও সময় নেন না। কিন্তু এই অপরূপ সৌন্দর্য্য বিলানো চমৎকার পরিবেশ যিনি গড়ে তুলে স্মরণীয় হয়ে আছেন সেই মানুষটির পরিচয় কেউ জানেন না। তিনি হলেন, নলডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত ছবেদ আলী বিশ্বাসের ছেলে মো. আলাউদ্দীন। তার হাতের ছোঁয়ায় তেঁতুলতলা থেকে নলডাঙ্গা সড়কটি আজ মানুষের কাছে এতো জনপ্রিয় ও সৌন্দর্য্যমন্ডিত। চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন ১৯৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এক সম্ভান্ত পরিবারে। তার পিতাও ছিলেন চেয়ারম্যান। পরিবারটি এলাকায় জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী জনহিতকর কাজের জন্য। ১৯৯২ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আলাউদ্দীন পরের বছর ১৯৯৩ সালে নলডাঙ্গা সড়কে ২৫০০টি নারিকেল গাছ রোপণ করেন। পরিচর্চা ও যত্নের পর মাত্র ৭০০ নারিকেলগাছ বেঁচে ছিল। গাছ লাগানোর পর তা দৃশ্যমান হতে থাকে। পত্রপল্লবে বিকশিত হতে থাকে শ শ নারিকেরগাছ। এক সময় মাঠের কৃষক আর রাখালের ছায়া হয়ে দাঁড়ায় গাছগুলো। প্রায় ২৯ বছর পর সৌন্দর্য্য প্রেমিকদের নজরকাড়ে নারিকেলের সারি সমৃদ্ধ ছায়াঘেরা সড়কটি। স্থানীয় মসজিদ কমিটি নারিকেল গাছগুলো দেখভাল করছেন। আলাউদ্দীন জানান, ১৯৯২ ও ২০১২ পর্যন্ত তিনি ১৪ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চেয়ারম্যান না হলেও ২০২২ সালে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে চার কিলোমিটার জুড়ে তালের বীজ বপন করেন। এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও স্কুল উন্নয়নে তার অবদান রয়েছে। এলাকায় করেছেন ব্রিজ, কালভার্ট ও গ্রামীণ সড়ক। এখনো তিনি ছুটে চলেন এলাকার মানুষের কল্যাণে। তার হাতে লাগানো নারিকেল গাছগুলো প্রকৃতি প্রেমিকদের নজর কাড়ায় তিনি উচ্ছ্বসিত ও গর্বিত। তিনি বলেন, প্রতিটি গ্রামীণ সড়কে এভাবে গাছ রোপন করলে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা জাগ্রত হয়। মলি খাতুন (ছদ্মনাম) নামে এক প্রেমিকা ঘুরতে আসেন এই সড়কে। তার মতো অনেকেই নারিকেল গাছের নিচে কেউ বা বিশাল প্রশস্ত মাঠের ধানের আইলে বসে গল্প করে সময় কাটাচ্ছেন। তারা এমন পরিবেশ দেখে খুবই মুগ্ধ।