ভোটারবিহীন নির্বাচনের সেই ৫ জানুয়ারি আজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ ৫ জানুয়ারি। ২০১৪ সালের এই দিনে ভোটারবিহীন এক তরফা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশের ইতিহাসে একটি বিতর্কিত ও কলঙ্কজনক নির্বাচন । সচেতন মহল মনে করেন, ওই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। যে নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ আসনে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক দলের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দল এমনকি সাধারণ জনগণ ওই নির্বাচনকে বয়কট করে। একমাত্র বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ তথা মহজোটের শরীক দল এই নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে সেদিনের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতে একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া ভোট কেন্দ্রে সাধারণ কোন জনগণের উপস্থিতি ছিল না।
নির্বাচনটি আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। আজও তার অবসান হয়নি। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। আর ৩৩ টি আসন পেয়ে বিরোধী দল হয়েছিল মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টি। যার মধ্যে ২০ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালও সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে নির্বাচন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিমন্ডলে অতিমাত্রায় সমালোচনা তর্ক- বিতর্ক হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয় বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবার কবির জাহিদ বলেন, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের দুটি নির্বাচনের মধ্যে কোনটিতে জনগণের অংশগ্রহণ ছিল না। এটা ছিল সরকারের ক্ষমতায় যাওয়ার ম্যাকানিজম। কোন নির্বাচন নয়। জনগণ সেই নির্বাচন নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছিল। আমরা সেই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। ভবিষ্যতে এই ধরণের তামাশা কিংবা প্রহসনের বদলে জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য জনগণ সংগঠিত হচ্ছে। আমরা জনগণকে আরও সংগঠিত করে অবাধ,সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায় করে ছাড়বো।
বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সাল গণতন্ত্র হত্যা দিবস। সেদিন বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী,জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং বিরোদী দলীয় নেতাসহ ১৫৩ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হন। গণতন্ত্রের নামে সাধারণ মানুষের পবিত্র আমানত ভোটাধিকার হরণের এমন তামাশার নির্বাচন পৃথিবীর আর কোন দেশে হয়েছে বলে আমার জানা নেই। সেদিন থেকে শুরু করে আজ অবধি সর্বক্ষেত্রে এক অনির্বাচিত , দুর্নীতিগ্রস্ত, একনায়কতন্ত্র, ফ্যাসিবাদি সরকার জনগণের ওপর জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে আছে।