বিজয়ের মাস

 

মাসুদ রানা বাবু ॥ আজ ১০ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এদিনে ঢাকায় রাও ফরমান আলীর নেতৃত্বে ও পরিকল্পনায় বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের সূচনা হয়। এদিন শান্তিনগরের চামেলীবাগের ভাড়া বাসা থেকে প্রখ্যাত সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে আলবদর বাহিনীর সহযোগিতায় ধরে নিয়ে যায় পাক হানাদার বাহিনী। ‘অবরুদ্ধ ঢাকা শহর থেকে বিদেশি নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া বিমান ঢাকায় অবতরণের আগে কলকাতায় অবতরণ করতে হবে’ বলে ভারত সরকার বিদেশি বিমানগুলোর ওপর যে নির্দেশনা জারি করেছে তা প্রত্যাহার করতে ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ করে জাতিসংঘ ও ৭টি দেশ। এই দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দিল্লিতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, ‘সব ধর্মের মানুষই সমানভাবে আমাদের ভাই। এই মহান আদর্শ রক্ষার জন্য আপনারা এবং আমরা সংগ্রাম করছি।’ ১০ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিব উ থান্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আগা শাহী। তিনি সেখানে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি করেন। রেডিও পিকিংয়ের এক ঘোষণায় বলা হয়, ভারত যদি বিশ্বমত উপেক্ষা করে সোভিয়েত ইউনিয়নকে মিত্র হিসেবে পাশে পেয়ে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে তবে ভারতকে চরম শিক্ষা পেতে হবে। জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর মার্কিন সপ্তম নৌ বহর মালাক্কা প্রণালীর পূর্বে অবস্থান করছে। বিকাল ৪টার দিকে জামালপুরে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার হরদেব সিং ক্লেয়ারের নির্দেশে পাক হানাদর বাহিনীর ৩১ বেলুচ রেজিমেন্টের অধিনায়ক লে. কর্নেল সুলতান মাহমুদের আত্মসমর্পণের আহবান জানিয়ে জহিরুল হক মুন্সীকে পাঠানো হয়। আত্মসমর্পণের চিঠি নিয়ে গেলে পাক হানাদার বাহিনী চিঠি বহনের অপরাধে বাহক কৃষকের বেশে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল হক মুন্সীর ওপর চরম পৈশাচিক নির্যাতন চালায়। ১০ ডিসেম্বর সাভারের নয়ারহাটে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর বিমান রেডিও ট্রান্সমিশনের ওপর বোমা হামলা চালালে বেতারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এদিন ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটানা বিমান হামলায় চট্টগ্রাম ও চালনা বন্দর অচল হয়ে পড়ে। কয়েকটা জাহাজে করে পাকসেনারা পালাবার সময় বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ে। একটি জাহাজে নিরপেক্ষ দেশের পতাকা উড়িয়ে হানাদার বাহিনী সিঙ্গাপুরে পালাবার পথে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে।