বৈদেশিক মুদ্রা প্রতারকচক্রের সদস্য ফরিদপুরে আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রায় এক মাস আগে যশোর সদর উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের আক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন বৈদেশিক মুদ্রা প্রতারকচক্রের সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পীরের চর মল্লিকদি গ্রামে অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের সদস্য হাসিয়ার ফকিরকে (৫২) আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার তাকে যশোরের আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা বসু তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আটক হাসিয়ার ফকির ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পীরের চর মল্লিকদি গ্রামের মলফত ফকিরের ছেলে। প্রতারণার ঘটনায় আটক হাসিয়ার ফকিরসহ ৩ জনকে আসামি করে গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী আক্তার হোসেন। তিনি চাঁদপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে।
ওই মামলার অপর আসামিরা হলেন, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পীরের চর এলাকার মৃত হামিদ খাঁ’র ছেলে সিরাজ খাঁ (৬০) ও মৃত আজি বিশ্বাসের ছেলে জিয়া বিশ্বাস (৪৫)।
মামলায় আক্তার হোসেন উল্লেখ করেছেন, প্রায় ১ মাস আগে আসামি সিরাজ খাঁ চাঁদপাড়া গ্রামে তাদের বাড়িতে ছাতা মেরামত করতে আসেন। কাজ করার ফাঁকে দুজনের মধ্যে কথাবার্তা হয়। এ সময় আক্তার হোসেনে কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে যান সিরাজ খাঁ। এ ঘটনার ৩/৪ দিন পর আক্তার হোসেনের কাছে মোবাইল ফোন করে সিরাজ খাঁ জানান যে, তার দূর সম্পর্কের এক ভাই মেথরের কাজ করেন। তিনি একটি বাসায় কাজ করতেন। ওই বাসার এক বৃদ্ধ মারা গেলে পরিবারের সদস্যরা তার ব্যবহৃত কাপড় চোপড় ও কাঁথা বালিশ তাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিতে বলেছিলেন। ডাস্টবিনে ফেলতে গিয়ে কাপড় চোপড়ের ভেতর ১০ হাজার সৌদি রিয়াল পেয়েছেন সেই ভাই। কিন্তু অশিক্ষিত মানুষ হওয়ায় তারা সৌদি রিয়াল ভাঙ্গাতে পারছেন না। এ জন্যে আক্তার হোসেনের সাহায্য চান সিরাজ খাঁ। তার কথায় রাজি হয়ে যান আক্তার হোসেন। গত ১ নভেম্বর সিরাজ খাঁসহ উল্লিখিত ৩ জন যশোরে এসে আক্তার হোসেনের কাছে ১শ’ সৌদি রিয়ালের একটি নোট দিলে তিনি ভাঙ্গিয়ে তাদেরকে ২ হাজার ৭শ’ টাকা দেন। আসল সৌদি রিয়াল নিশ্চিত হওয়ার পর আক্তার হোসেন তাদের সৌদি রিয়াল পাওয়ার বিষয়টি বিশ্বাসও করেন। এরপর গত ১৩ নভেম্বর দুপুরে ঝুমঝুমপুর শাখা অগ্রণী ব্যাংক থেকে ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে তাদেরকে দেন ১০ হাজার সৌদি রিয়াল নেয়ার জন্যে। এ সময় উল্লিখিত আসামিরা ১০ হাজার সৌদি রিয়াল আছে মর্মে একটি ব্যাগ আক্তার হোসেনের হাতে ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন। পরে ব্যাগ খুলে আক্তার হোসেন দেখতে পান তার ভেতরে গামছা দিয়ে পেঁচানো কাগজ ও ১টি ভিমবার রয়েছে।