যশোরে বিএনপি ও জামায়াতের ৯১ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা, আটক ৩০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কথিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে যশোরের কোতয়ালি ও বাঘারপাড়া থানায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের ৯১ জনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছে পুলিশ। এছাড়া বাঘারপাড়া থানার মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ২শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই রাতে বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলায় ১৪ জন ও বাঘারপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আরো ১৬ জনকে আটক করে কথিত নাশকতার মামলায় আসামি করা হয়েছে। শনিবার আটকদের আদালতে সোপর্দ করা হলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
কোতয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার আসামিরা হলেন, সদর উপজেলার নুরপুর দক্ষিণপাড়ার আব্দুল জব্বার (৪২), উত্তর ললিতাদাহ গ্রামের আমির হোসেন (৫০), হোসেন (৫৫), শাখারীগাতি গ্রামের আকবর হুসাইন (৫৫), শফিউল্লাহ (৫১), জগহাটি গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেন (৪৮), রূপদিয়ার হাবিবুল্লাহ (২৬), নরেন্দ্রপুরের রাশেদুল ইসলাম, মণিরামপুর উপজেলার সন্যাসগাছা গ্রামের শেখ আব্দুল জলিল (৪৮), মজগুনি গ্রামের তাজামুল ইসলাম (৩০), কেশবপুর উপজেলার লক্ষ্মীনাথকাটি গ্রামের বেলাল হোসেন (২৫), সাতবাড়িয়া গ্রামের আবুল হোসেন (৫০), খোপদহি গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন (৪২), পাঁচবাকাবর্শী গ্রামের মনিরুল ইসলাম (২৮), সদর উপজেলার কাজীপুর গ্রামের নাজমুল (৩৫), মুসা (৫০), সাহাজুর (৩২), কাজীপুর পশ্চিমপাড়ার শাহাবুদ্দিন (৫২), খালিদ (৪২), রামনগর গ্রামের হাসান (৩২), কামালপুর গ্রামের সাখাওয়াত (৪২), আবু তাহের (৪৫), হাবিব (৪৮), রামনগর গ্রামের লাদেন (২২), ফরহাদ (৩৫), এরশাদ (২৮), সিরাজসিংগা সরদারপাড়ার জিয়াউর (২৫), রামনগর গ্রামের সারাফাত (২৮), রামনগর মোল্লাপাড়া রমজান হোসেন (২৬), তেঘরিয়া গ্রামের ইমামুল হোসেন (৩৭), চান্দুটিয়া গ্রামের আক্তারুজ্জামান কল্লোল (৪৩), নারাঙ্গালী মহলদারপাড়ার শফিকুর রহমান (৪৮), নারাঙ্গালীর হাশেম রেজা (৫৫), তেঘরিয়া গ্রামের সাজ্জাদুল আলম বিলু (৫১), শহিদুল আমিন (৩৫), নরেন্দ্রপুর গ্রামের মাওলানা ময়েজ উদ্দিন (৫০), শাখারীগাতি গ্রামের হাফেজ তরিকুল (৪২), শফিউল্লাহ (৫৯), নরেন্দ্রপুরের মাওলানা মোস্তফা (৪৪), জাকির হোসেন (৫২), সাইদুর রহমান (৪৯), আলতাফ হোসেন (৫২), গোপালপুর গ্রামের আনিসুর রহমান (৫২), রূপদিয়ার খবির খান (৫৩), শাখারীগাতি গ্রামের মোস্তফা কামাল (৪৭), রইচ উদ্দিন (৫২), রূপদিয়ার ইদ্রিস আলী (৫০), চাউলিয়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম (৪৩) ও জিরাট গ্রামের ফয়সাল হোসেন (২৫)। এই মামলার বাদি কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।
মামলায় দাবি করা হয়েছে, বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য রামনগর নামেজ সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবস্থান করছেন এ খবর পেয়ে গত শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে ১৪ জনকে আটক করা হয়। অন্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। আটকদের মধ্যে মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে শপিং ব্যাগে থাকা ৪টি ককটেল এবং তাজামুল ইসলামের কাছ থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগে থাকা ৪টি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
অবশ্য রামনগর স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন যে, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ হয়রানি করার জন্য সাজানো নাশকতার মামলা করেছে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
অপরদিকে বাঘারপাড়া থানায় দায়ের করা মামলার আসামিরা হলেন, উপজেলার দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান (৫০), পাকেরআলী গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৩২), মাহামুদপুর গ্রামের তইফুল ইসলাম (২০), কিসমত মাহামুদপুর গ্রামের শাহাবুদ্দিন (৩৪), হাশমত আলী (৩৮), মো. রিপন (৪৭), জামালপুর গ্রামের আবুল হোসেন (৩৩), বিপুল হোসেন (৩৫), মিজানুর রহমান (৫০), আবু তালেব (৩০), ঘোষনগর গ্রামের ইমন আলী (২২), পাকেরআলী গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৫০), দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের মাসুদ রানা (৪০), জাকির হোসেন (৩০), সাইটখালী গ্রামের মো. ফরহাদ (৩৫), রামনগর গ্রামের মাসুদ রানা (৪০), বাগডাঙ্গা গ্রামের মশিয়ার রহমান (৫৫), বাঘারপাড়ার আবু তালেব (৪৫), ধুপখালী গ্রামের সাদ্দাম হোসেন (৩০), নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মোল্লা (৪০), বাঘারপাড়ার শরিফুল ইসলাম (৪৫), মহিরন গ্রামের তহিদুর রহমান (৪০), বাঘারপাড়ার আমিনুর রহমান (৫৫), আশা (২৯), দোহাকুলা গ্রামের মন্টু মিয়া (৩৫), ইয়াসিন আরাফাত (২৬), বাঘারপাড়ার আব্দুল জব্বার (৫২), মহিরন গ্রামের মো. কাছেদ (৫৫), সদর উদ্দিন (৬৬), মির্জাপুর গ্রামের রজব আলী (৪৭), বাঘারপাড়ার জাকির হোসেন (৩৭), দোহাকুলা গ্রামের বাহারুল ইসলাম (৫০), মহিরন গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন (৭৩), মীরপুর গ্রামের ফারুক হোসেন (৪৫), দোহাকুলা গ্রামের বাহারুল ইসলাম (৫৫), জিয়াউর রহমান (৪৫), নওয়াপাড়ার আব্দুস সামাদ (৭০), দোহাকুলা গ্রামের মো. রাশেদ (৫৫), মনিরুল ইসলাম (৪০), আফজাল হোসেন (৬০), জুলফিকার আলী (৬০) ও বাহারুল ইসলাম (৪৯)। এই মামলার বাদি বাঘারপাড়া থানা পুলিশের এসআই সজল কুমার বিশ্বাস।
মামলায় দাবি করা হয়েছে, গত শুক্রবার বিকেলে মাহমুদপুর প্রাইমারি স্কুলের সামনে বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মী নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য অবস্থান করছেন এ খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে ১৬ জনকে আটক করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যান।