প্রধানমন্ত্রীকে পদক্ষেপ নিতে হবে

 

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এর প্রতিক্রিয়ায় পাশ্চাত্যের নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। তখন আমাদের দেশে ব্যাংক থেকে টাকা লুটের খবর ঘটনা ঘটছে। গতকাল এ খবর প্রকাশ হয় লোকসমাজসহ বিভিন্ন পত্রিকায়। বিষয়টি দুঃখজনক। উন্নত দেশগুলোও আজ অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। এর ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। আন্তর্জাতিক চাহিদা কমে যাওয়ায় আমাদের মোট রপ্তানি কমে যাচ্ছে। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে বেড়ে যাচ্ছে আমদানি ব্যয়। কমছে প্রবাস আয়। এসবের প্রভাব পড়ছে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। অন্যদিকে, খরা ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে, বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা আজ চরম হুমকির মুখে। এই সংকটজনক পরিস্থিতি মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এতটা তীব্র যে স্মরণকালের মধ্যে জনদুর্ভোগ সবচেয়ে কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক দেশেই রুটির জন্য মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। আফ্রিকার অনেক দেশে রীতিমতো দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। আমাদের পাশের দেশ শ্রীলঙ্কার অবস্থা কমবেশি সবাই জানি। এ অবস্থায় আমরা কিভাবে এই সংকট মোকাবেলা করব, তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতেই হবে। পাশাপাশি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। কারণ, পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরো খারাপের দিকে যেতে পারে। বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। আপৎকালীন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার মতো প্রস্তুতি আমাদের থাকতেই হবে। সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী দেশে খাদ্যের মজুদ ১৫ লাখ টনের বেশি রাখতে বলেছেন। এ জন্য অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের পাশাপাশি কোথায় কোথায় খাদ্য পাওয়া যায়, তা জেনে সেসব দেশ থেকে খাদ্য আমদানি বাড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। উন্নত দেশগুলো সংকটে থাকায় প্রবাসী কর্মীরাও সংকটে আছেন। তাঁরা আগের মতো রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন না। রপ্তানিও কমছে। অন্যদিকে খাদ্য, জ্বালানির মতো কিছু জরুরি পণ্য আমদানিতে অনেক বেশি বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ছে। সেই চাপ কমাতে এই সময়ে বিলাসী পণ্য আমদানি কমাতেই হবে। অর্থনীতির স্বার্থে মুদ্রাপাচার, ওভার ইনভয়েস, আন্ডার ইনভয়েস, হুন্ডি এসব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ব্যাংকিং খাতে আরো স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতির লাগাম টানতে হবে। তবে দুঃখজনক খবর হচ্ছে, আমাদের ব্যাংকিং খাতেই বাড়ছে দুর্নীতি। সর্বশেষ ইসলামী ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেংকারির খবর হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। আমরা মনে করি, সরকারের সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা আসবে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও সুপারিশে অর্থনৈতিক লুটের ঘটনা ঘটছে। আমরা আশা করবো, প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেবেন।