উত্তীর্ণদের কলেজে ভর্তির সুযোগ করতে হবে

 

শিক্ষাজীবনে ধাপের অভাব নেই। প্রাথমিক ধাপ ৫ম শ্রেণি, দ্বিতীয় ধাপ অষ্টম শ্রেণি। এরপর সার্টিফিকেট পর্ব। যার প্রথমটিই হচ্ছে, এসএসসি এবং দ্বিতীয়টি এইচএসসি। মূলত এ দু’টি সার্টিফিকেট ছাড়া শিক্ষাজীবন অর্থহীন হয়ে যায়। চতুর্থ শ্রেণির চাকরি পেতে এখন এ দু’টি সার্টিফিকেট দিতে হয়। তবে, এসএসসি হচ্ছে প্রথম ও প্রধান মাইলফলক। এসএসসি পাস না করলে ছাত্রজীবনের ইতি টানা হয়ে যায়। আর পাস করলে শেষ সার্টিফিকেট অর্জনের পথ খুলে যায়। এ কারণেই এসএসসি পরীক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। গত দু’বছর করোনায় শিক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হবার ফলে অটো পাসের মাধ্যমে জট কমাতে হয়। এবারও তেমন শঙ্কা জেগেছিল। তবে, সাত মাস পিছিয়ে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও বিষয় কমিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে গত সোমবার। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের কারণে পাসের হারও জিপিএ-৫ বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। যারা উত্তীর্ণ হয়েছে তারা উল্লাসিত হয়েছে। আমরা তাদের অভিনন্দন জানাই। সাত মাস বিলম্বিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা। এ বোর্ডে এবার সবচেয়ে বেশি, ৯৫ দশমিক ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। আর সবচেয়ে কম পাস করেছে সিলেট বোর্ডে, ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। প্রতিবারের মত এবারও জিপিএ-৫ এ সবার উপরে রয়েছে ঢাকা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা, এ শিক্ষা বোর্ডের ৬৪ হাজার ৯৮৪ জন শিক্ষার্থী পূর্ণ জিপিএ পেয়েছে। দেশে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন। গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জন। সে হিসেবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ পয়েন্ট ও জিপিএ-৫ বেড়েছে ৮৬ হাজার ২৬২টি।
করোনাভাইরাস মহামারী ও বন্যায় সাত মাস পিছিয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিকের পরীক্ষা শুরু হয়। সব বোর্ড মিলিয়ে এ বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ জন। আমরা উত্তীর্ণদের অভিনন্দন জানাই। যারা পারেননি তাদের হতাশ না হয়ে চেষ্টা করার পরামর্শ রাখি। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভালো কলেজে ভর্তির পাশাপাশি অন্য উত্তীর্ণদের ভর্তির সুযোগ করে দেবার প্রস্তুতি নেবার আহ্বান জানাই। আমরা আশা করবো, উত্তীর্ণদের কেউ যেন কলেজবিহীন না থাকে। তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা এখনই কাজ শুরু করবেন।