আশা জাগিয়েও পারলো না কোরিয়া, ঘানার দুর্দান্ত জয়

লোকসমাজ ডেস্ক॥ প্রথমার্ধে কোরিয়ার জালে ২ গোল দেওয়ার পর মনে হয়েছিলো ঘানা ম্যাচটি সহজেই নিজেদের করে নিতে পারবে। কিন্তু ম্যাচের সব রোমান্স যে দ্বিতীয়ার্ধের জন্য জমা ছিল তা কে জানতো। পিছিয়ে পড়া দক্ষিণ কোরিয়া তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ জমিয়ে তুলেছিল ম্যাচটি।
যদিও এশিয়ার অন্যতম প্রতিনিধিরা সমতায় থাকাটা ধরে রাখতে পারেনি। আশা জাগিয়ে সমর্থকদের নিরাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ঘানা ৩-২ গোলের দুর্দান্ত জয় নিয়ে নিজেদের ভালোভাবেই টিকিয়ে রাখলো বিশ্বকাপের মঞ্চে। গোল করেছেন মোহাম্মেদ কুদুস দুইটি ও সালিসু একটি। দক্ষিণ কোরিয়া দুই গোলই করেছেন চো গুয়ে সুং।
বিশ্বকাপের নবম দিনের প্রথম দুটি ম্যাচই ছিল দর্শকদের চোখ জুড়ানোর মতো। আক্রমণ পাল্টা-আক্রমণ এবং গোল পাল্টা-গোলের ম্যাচটি বেশি জমেছিল দ্বিতীয়ার্ধে। দর্শক দেখেছে পাঁচ পাঁচটি গোল। মুগ্ধ হওয়ার মতো কিছু আক্রমণ। সবকিছু মিলিয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার লড়াই ছিল চোখ জুড়ানো।
পিছিয়ে পড়া কোরিয়া দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে ম্যাচে ফিরতে। প্রথম সুযোগই কাজে লাগিয়েছে তারা। ৫৩ মিনিটে চো গুয়ের শট ঘানার গোলরক্ষক ধরলেও ৫৮ মিনিটে তাকে রুখতে পারেননি। কিম জিন সু এর অ্যাসিস্ট থেকে চো গুয়ে সুং হেডে ২-১ করেন।
মাত্র তিন মিনিট পর আবার ঘানাকে স্তব্ধ করে দেয় চো গুয়ে সুং। এবারও গোলের উৎস কিম জিন সু। ডান দিক থেকে নেওয়া তার ক্রসে ২-২ করেন চো গুয়ে।
এগিয়ে যেতে বেশি সময় নেয়নি ঘানা। ৬৮ মিনিটে ড্যানিস উইলিয়ামের কাছ থেকে বল পেয়ে ঘানাকে আবার লিড এনে দেন সেই মোহামেম্দ কুদুস।
পিছিয়ে পড়া কোরিয়া মৌমাছির মতো আক্রমণ করতে থাকে ঘানার রক্ষণে। ঘানা রক্ষণকে জমাট রেখে কোরিয়ার সব আক্রমণ রুখে দেয়। ফরোয়ার্ডদের শট কখনো ঘানার গোলরক্ষ ঠেকিয়েছেন, কখনো পোস্ট ও বারঘেঁষে বাইরে গেছে। কখনো আবার আটকে দিয়েছে ডিফেন্ডাররা।
বিশ্বকাপের প্রথম চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে গোলশূন্য রুখে দিয়ে কাতার বিশ্বকাপটা শুরু করেছিল এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া। দারুণ সূচনার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ঘানার বিপক্ষেও প্রধান্য নিয়ে শুরু করেছিল। বল পজেশনে আফ্রিকার দেশটির চেয়ে ঢের এগিয়ে থেকেও তারা প্রথমার্ধে ২ গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছে।
প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়েছিল ঘানা। ২৪ মিনিটে ঘানা ম্যাচে লিড নেয় মোহাম্মদ সালিসুর গোলে। ফ্রি-কিক থেকে কোরিয়ার গোলমুখে জটলা তৈরি হয়েছিল। একাধিক কোরিয়ান ডিফেন্ডার থাকলেও কেউ বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। মোহাম্মদ সালিসুর পায়ে বল গেলে তিনি সুযোগটি ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে। বলতে গেলে ধারার বিপরীতেই গোল করে এগিয়ে দিয়েছেন দলকে।
১০ মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে আফ্রিকার দলটি। বাম দিক থেকে জর্ডান আইয়ুর ক্রসে মোহাম্মেদ কুদুসের হেড কোরিয়ার জালে জড়ালে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ঘানা।
দক্ষিণ কোরিয়া চেষ্টা করেছিল ম্যাচে ফিরতে। মাঝমাঠে প্রাধান্য নিয়ে বারবার তারা ঘানার রক্ষণ চূর্ণ করার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু ঘানার জমাট রক্ষণভাগ কোন সুযোগই দেয়নি কোরিয়ানদের।
উরুগয়েকে রুখে ১ পয়েন্ট পাওয়া কোরিয়া ম্যাচটি ড্র করতে পারলেও আশাটার বাতিটা একটু জ্বলজ্বল করতো। এখনো তাদের একটি ম্যাচ বাকি পর্তুগালের বিপক্ষে। তাই শেষ ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি করা কঠিন কাজ তাদের জন্য। অন্যদিকে ঘানার ম্যাচ বাকি উরুগুয়েরে বিপক্ষে।