লস এন্ড ড্যামেজ ফান্ড সহায়তাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে

মিসরের শার্ম-এল-শেখ শহরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন কপ ২৭ এ শেষ মুহূর্তে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে উন্নত দেশগুলো সেই প্রতিশ্রুতি সঠিকভাবে পালন করে যাবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার। একথা বিশ্ব নিশ্চয়ই জানে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। নোনা পানির অনুপ্রবেশ ক্রমেই বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসেও প্রায় প্রতিবছর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে এরই মধ্যে তীব্র খরা ও মরুকরণ প্রক্রিয়ার আলামত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিয়মিত বিষয় হয়ে উঠেছে। এসব কারণে বর্তমানে ৬০ লাখের বেশি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হিসেবে অনিশ্চিত জীবনযাপন করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রায় দুই কোটি শিশু প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা জার্মানওয়াচের হিসাবেও বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে সপ্তম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র। প্রতিবেদন অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে বাংলাদেশে ক্ষতি হয়েছে প্রায় এক লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদের, যা মোট জিডিপির ১.৩২ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রকৃত ক্ষতি এর চেয়েও অনেক বেশি এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান আরো ওপরের দিকে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ বৈশ্বিক নানা তহবিল থেকে যে ধরনের সহায়তা পাওয়া প্রয়োজন ছিল, সেই তুলনায় প্রায় কিছুই পাচ্ছে না। উন্নত দেশগুলোও তাদের প্রতিশ্রুত তহবিল ঠিকমতো ছাড় করে না। অ্যাডাপটেশন অ্যান্ড মিটিগেশন ফান্ডে প্রতিবছর উন্নত দেশগুলোর ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা থাকলেও সেই অর্থ ঠিকমতো পাওয়া যায় না। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মূলত দায়ী উন্নত দেশগুলো। যেসব দেশ এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের দায় নেই বললেই চলে। তাই, এসব দেশের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমরা আশা করতে পারি, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সহায়তা পাবে। বাংলাদেশকেও এ ক্ষেত্রে নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র যৌক্তিকভাবে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রাপ্ত তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।