হতাশ যশোরবাসী!

স্টাফ রিপোর্টার ॥ টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকাবস্থায় তৃতীয় মেয়াদের শেষ সময়ে দীর্ঘ ৫ বছর পর বৃস্পতিবার যশোরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এজন্যে যশোরের অসমাপ্ত কিছু উন্নয়নের দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকাঙ্ক্ষা ছিলো যশোরবাসীর। এরমধ্যে যশোরকে বিভাগ ঘোষণা, সিটি কর্পোরেশন করা, যশোর বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উন্নীত করাসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি উল্লেখযোগ্য। সবার প্রত্যাশা ছিলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে যশোরের এসব উন্নয়নের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেবেন। কিন্তু তা হয়নি, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে যশোরের এসব উন্নয়নের বিষয়ে কোনো কিছুই বলেন নি। তিনি তার সরকারের শাসনামলে যশোরের জন্যে অতীতে বাস্তবায়িত ও চলমান কিছু মেগাপ্রকল্পের বিষয় ছাড়া নতুন উন্নয়নের কোনো বার্তা দিয়ে যাননি। সে কারণে জনসভায় আসা অনেকেই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এমনকি আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝেও হতাশা দেখা যায়। জনসভায় অংশ নেয়া যশোরের ঝিকরগাছার আব্দুল আলিম নামে এক ব্যক্তি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবার যশোরের জন্যে কিছুই দিলেন না। আমরা মনে করেছিলাম তিনি আমাদের যশোর বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উন্নীত করার ঘোষণা দেবেন, ফুলের রাজধানী হিসেবে খ্যাত যশোরে বিশেষায়িত একটি ফুল সংরক্ষণের জন্যে হিমাগার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেবেন। কিন্তু এ বিষয়ে কিছুই বলেননি তিনি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে ঘোষণা দিলে আমরা খুশি হতাম। প্রায় একই কথা বলেন শহরের সিটি কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা রজিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, এর আগে ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী যশোরে জনসভায় ভাষণে বলেছিলেন তিনি ক্ষমতায় আসলে যশোরকে সিটি কর্পোরেশন করবেন। আশা করেছিলাম প্রধানমন্ত্রী আজকের জনসভা থেকে যশোরকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা দেবেন। কিন্তু এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ঘোষণা না আসায় আমরা হতাশ হয়েছি। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে শুধুমাত্র পূর্বের গৃহিত উন্নয়নের কথা বলেছেন। যশোরের উন্নয়নে নতুন কোনো প্রকল্পের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেননি। এক কথায় বলা চলে এবার আমরা কিছুই পেলামনা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যশোরের একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে শুধুমাত্র উন্নয়নের ফিরিস্তি উঠে এসেছে। তবে যশোরের মানুষের মূল দাবির বিষয়ে কোনো বার্তা ছিলোনা। তিনি বলেন, এরজন্যে দায়ী যশোরের আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও এমপিরা। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়েছেন। এ অঞ্চলের চারজন এমপি জনসভায় ভাষণ দিলেও তখন মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। সভাপতির ভাষণে দলটির জেলা সভাপতি ভাষণ দিলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোনো উন্নয়নের দাবি তুলতে পারলেন না। এটি খুবই দুঃখজনক বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে আমি শুধুমাত্র এ অঞ্চলের উন্নয়নের বিষয়ে নতুন একটি প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। সেটি হলো ভবদহ অঞ্চলের জন্য দ্বিতীয় আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ণ হলে এ অঞ্চলের ১ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল রক্ষা পাবে, নদীগুলো প্রাণ ফিরে পাবে। তবে সেটি কবে নাগাদ শুরু হবে, প্রকল্পের জন্যে কত টাকা বরাদ্দ সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি তিনি। ভাষণে জাতীয় বিদ্যমান সংকট নিরসনে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা ছিলোনা।