প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোর আসছেন আজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনা মহামারীর পর দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর পর ঢাকার বাইরে এই প্রথম কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে আজ যশোরে আসছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে দুপুরে তিনি জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। এর আগে তিনি যশোর বীরশ্রেষ্ট মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটিতে বিমান বাহিনী আয়োজিত বার্ষিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন।  যশোর স্টেডিয়ামে জনসভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে । আগামী জাতীয় নির্বাচনের এক বছর আগে যশোরে প্রথম কোনো রাজনৈতিক জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্যে তার এ সফরকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের অভিমত, চলমান অর্থনৈতিক চরম সংকট, দ্রব্যমূল্যের ভয়াবহ চরম সংকটকালে এই জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী জনমানুষের সমস্যা নিরসণে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেবেন। সাথে অসমাপ্ত উন্নয়নের বিষয়টিও উঠে আসবে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে এমনটি প্রত্যাশা করছেন যশোরবাসী।
প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা উপলক্ষে শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে তৈরি করা হয়েছে সুজ্জিত সভামঞ্চ। নৌকার আদলে নির্মিত মঞ্চের দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট ও প্রস্ত ৪০ ফুট। মূল স্টেজ করা হয়েছে ৮০ ফুট বাই ৪০ ফুট। মঞ্চের পেছনে ৭৬ ফুট বাই ১০ ফুট ব্যানার টাঙানো হয়েছে। চারুকলার ছাত্রদের দিয়ে নান্দনিকভাবে উপস্থাপনের জন্যে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার ব্যাক স্ক্রিন করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান। প্রস্তুতি কাজের জন্য দুদিন আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনসভাস্থলে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার স্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, আগামীকালের (আজকের) জনসভা নিকট অতিতের যেকোনো জনসমাবেশের চেয়ে সর্ববৃহৎ জনসভা হবে। জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জাতির জন্যে গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ থাকবে। তিনি বলেন, এই জনসভা শুধু স্টেডিয়ামের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকবে না; সমগ্র যশোর শহর জনসভাস্থলে রূপ নেবে। এ সময় জাহাঙ্গীর কবীর নানকের সাথে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আফম বাহাউদ্দীন নাসিমসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।
স্টেডিয়ামে এ সময় উপস্থিত যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর পর প্রধানমন্ত্রী যশোরে আসছেন। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছু প্রাপ্তি আছে। তিনি যেন যশোরকে সিটি করপোরেশন করে দেন। যশোর মেডিকেল কলেজের সাথে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরি করে দেবেন। যশোর বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করে দেবেন। তিনি সব সময় দক্ষিণবঙ্গের মানুষের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে থাকেন বলে তিনি দাবি করেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যশোরসহ আশপাশের জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের উপস্থিতির আশা করা হচ্ছে। এসব নেতাকর্মীরা অধিকাংশই বিভিন্ন যানবাহনে আসবেন। এজন্য জনসভায় প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও বাস মিলে ৫ হাজার গাড়ি আসা-যাওয়া ও পার্কিংয়ের জন্য ১০টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে তা আরো ১০টি পার্কিং পয়েন্ট বৃদ্ধি করা হয়েছে। ৪টি স্থানে মন্ত্রী-এমপি ও একটিতে অন্যান্য ভিআইপি এবং বাকি ৫টি স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা গাড়ি পার্কিং করতে পারবেন। জনসভার দিন শহরে যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। সভাস্থলে আসার জন্যে নির্দিষ্ট ১২ টি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। যানজট এড়াতে পথচারীদের জন্যে রোডম্যাপ করা হয়েছে বলে ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।