কী হবে ১৬০টি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের?

 

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ নির্ধারিত সময়ে ১৬০টি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নবায়নের আবেদন না করায় অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ (সেবা দান বন্ধ) করে দেয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে সেবা দিতে পারেনি। অবশেষে বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে কী হবে আইএসপিগুলোর।
জানা গেছে, ১৬০টি আইএসপির মধ্যে কয়েকটিকে প্রশাসনিক জরিমানা ধার্য, কয়েকটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ এবং কয়েকটির অফিস সরেজমিনে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইএসপি গাইডলাইনের বিধিবিধান প্রতিপালন না করায় তথা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের আবেদন না করায় গত ১২ জুলাই বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৬০টি আইএসপি প্রতিষ্ঠানের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জাতীয় ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান ৪টি, বিভাগীয় ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান ৩২টি, উপজেলা ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান ১২৪টি। এরমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠান ২০ অক্টোবর পর্যন্ত নবায়নের জন্য আবেদন করেছে। আর ব্যর্থ হয়েছে ১২৫টি প্রতিষ্ঠান। গাইডলাইন অনুসারে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করার বিধান থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন করেনি। যদিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে লাইসেন্স বাতিলের বিধান রয়েছে। বিটিআরসিতে আইএসপি লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন না করা ১৬০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে পরবর্তী সময়ে গত ২০ অক্টোবর পর্যন্ত কমিশন বরাবর ৩৫টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ (ধারা ৬৫) -এর বিধান মতে জাতীয় ক্যাটাগরির আইএসপিকে আড়াই লাখ, বিভাগীয় ক্যাটাগরির আইএসপিকে ১ লাখ টাকা এবং উপজেলা বা থানা ক্যাটাগরির আইএসপিগুলোকে ২৫ হাজার টাকা করে প্রশাসনিক জরিমানা ধার্য করে অপারেশনাল কার্যক্রম চালু এবং নবায়ন আবেদনগুলো বিবেচনার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা যায়। একই তারিখের মধ্যে নবায়নের জন্য আবেদন করতে ব্যর্থ ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের আইএসপি লাইসেন্স বাতিলের লক্ষে বিধি মোতাবেক কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানোর জন্য সরকারের অনুমোদনের জন্য চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া এই ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে কিনা তা সরেজমিনে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, এজন্য কমিউনিকেশন গ্যাপ দায়ী। মারাত্মক কমিউনিকেশন গ্যাপ রয়েছে দুই পক্ষেই। ফলে এই সমস্যা হয়েছে। আমরা অ্যাসোসিয়েশন থেকে এই গ্যাপ দূর করার চেষ্টা করছি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, এখন এই ব্যবস্থাটি অনলাইনে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করবেন। ফলে কাগজপত্র অনলাইনে হালনাগাদ করা থাকলে এ ধরনের সমস্যা হবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোর (১৬০টি) বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরমধ্যে কয়েকটি প্রশাসনিক জরিমানা দিয়েছে। কেউ কেউ কারণ দর্শানো নোটিস পেয়েছে। কতগুলো একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে যেগুলোর কোনও তথ্য বিটিআরসির কাছে নেই। সেগুলোও এই তালিকায় রয়েছে। সেগুলো একেবারে প্রান্তিক (গ্রাম) পর্যায়ে সেবা দিত।  আইএসপিএবির সভাপতি আরও বলেন, বড় বড় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের কাগজপত্র ঠিক রাখার জন্য পৃথক লোক থাকে কিন্তু ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানে এটা থাকে না। তাদের বিজনেস কেসে রাখাও সম্ভব হয় না। ফলে সমস্যা তাদের হয়। আমার মনে হয় ছোট ছোট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিটিআরসির একটু শিথিল হওয়া উচিত।