সঙ্গীত শিল্পী আকবর চলে গেলেন চিরতরে

স্টাফ রিপোর্টার॥ সঙ্গীত শিল্পী যশোরের আকবর আলী গাজী আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। কিডনি রোগের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে হাসপাতালের ‘লাইফ সাপোর্ট’ থেকে চির বিদায় নিলেন ‘ইত্যাদির’ মাধ্যমে উঠে আসা এ গায়ক।
প্রথাগত সঙ্গীত না শিখেও যশোরের বিভিন্ন মঞ্চে প্রায় হুবহু কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পী কিশোর কুমারের মতো করে তাঁর ‘একদিন পাখি উড়ে’ গানটি গাইতেন সে সময়ের রিকসাচালক আকবর। তাইতো স্বভাবশিল্পী তিনি। ‘গড গিফটেড’ বা ‘খোদা প্রদত্ত’ দরাজ সুরেলা কণ্ঠ তাকে সুখ্যাতি এনে দেয় দেশ ও বিদেশে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে  রবিবার বিকেল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে জানান তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা। পরিবার নিয়ে ঢাকার মিরপুরে বাসা ভাড়া করে থাকতেন আকবর। বছর পাঁচেক আগে কিডনির সমস্যা বেড়ে গেলে স্টেজ শো বাদ দিতে হয় তাকে। এরপর কয়েক দফা হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়েছে আকবরকে। পায়ে পচন ধরার কারণে অস্ত্রোপচার করে ডান পা কেটে ফেলা হয়।অক্টোবরে ঢাকার বেটার লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আকবর। সেখান থেকে ১৯ অক্টোবর তাকে বাসায় নেয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে গত ৫ নভেম্বর তাকে বারডেমে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই মারা যান তিনি। গায়ক হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আগে যশোরে রিকশা চালাতেন আকবর।  শিল্পী হিসেবে সুখ্যাতি অর্জনের পর তিনি যশোর সদরের আরবপুর ইউনিয়নের সুজলপুরে আট শতক জমি কিনে বাড়ি করেন। এখানে পক্ষাঘাতগ্রস্ত প্রথম স্ত্রী ও দুই ছেলে থাকেন। প্রথাগত পদ্ধতিতে গান না শিখলেও আকবরের ভরাট কণ্ঠের কদর ছিল যশোর শহরে। সে কারণে স্টেজ শো হলে ডাক পেতেন। ২০০৩ সালে যশোর এমএম কলেজের একটি অনুষ্ঠানে গান গেয়েছিলেন আকবর। সেই গান শুনে মুগ্ধ হয়ে বাগেরহাটের এক ব্যক্তি হানিফ সংকেতের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে চিঠি লিখে এই গায়কের কথা জানান। এরপর ‘ইত্যাদি’ কর্তৃপক্ষ আকবরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওই বছর ‘ইত্যাদিতে’ কিশোর কুমারের ‘একদিন পাখি উড়ে’ গান গেয়ে আলোচনায় আসেন আকবর। পরে ‘তোমার হাতপাখার বাতাসে’ গানটিও এই শিল্পীকে জনপ্রিয়তা এনে দেয়। আকবর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় তার চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল পরিবারকে। সেজন্য ধার-দেনা করার পাশাপাশি ঘরের আসবাবপত্রও বিক্রি করতে হয়েছে। আকবরের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দিয়েছিলেন। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবেও কাছের মানুষেরা সহযোগিতা করেছেন।আকবরকে যশোরের কারবালায় পিতা-মাতার কবরের পাশে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার বড় ছেলে কামরুল ইসলাম।