যশোর মণিহার বাসস্ট্যান্ড থেকে মুড়ুলি পর্যন্ত ৩ কি.মি রাস্তার কাজে দুই বছরের ভোগান্তি

 

আকরামুজ্জামান ॥ যশোর শহরের মণিহার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মুড়ুলি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজের দীর্ঘ ধীরগতির কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষ। দুই বছরের অধিক সময় ধরে ১৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে ফোর লেনের এ সড়ক উন্নয়নের কাজ শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কাজও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। যশোর শহরের সাথে দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ন এ সড়কের উন্নয়ন কাজের স্থবিরতার কারণে মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।
যশোর শহরের মুড়লি মোড় থেকে মণিহার বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটর এ সড়কটিকে ফোর লেনে উন্নীত করতে সড়ক ও জনপথ ২০২০ সালে টেন্ডার আহবান করে। ১৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ ছাড়াও দুই ধারে ড্রেন, ফুটপাত নির্মাণসহ মাঝখানে হালকা গতি সম্পন্ন যানবাহনের চলাচলের জন্য সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়। এর সাথে যুক্ত দুই পাশের বৈদ্যুতিক সড়ক বাতি।
সড়ক ও জনপথ যশোর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে সড়কটি চার লেনে উন্নিতকরণ কাজের দায়িত্ব পায় খুলনার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাহবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড। দরপত্রের কার্যাদেশে চলতি বছরে জুনের মধ্যে সড়কটির শতভাগ উন্নয়ন কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয় ঠিকাদারকে। তবে সড়কের দুই পাশের জমি অধিগ্রহণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বিষয়ে কিছু জটিলতার কারণে ঠিকাদারের কার্যাদেশ পেতে প্রায় ৬ মাস অপেক্ষা করতে হয়। যেকারণে নির্ধারিত মেয়াদে সড়কটির উন্নয়ন কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৩ জুন পর্যন্ত আবারও উন্নয়ন কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
এদিকে কাজের মেয়াদ বাড়ানো হলেও সড়কটির কাজের কোনো গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। শুধুমাত্র রাস্তা-খোঁড়াখুড়ি করে রাখা হলেও বাকি কাজের শম্বুকগতি। যে কারণে সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে জনভোগান্তির মূল কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যশোর-খুলনা রুটের বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তির যেনো শেষ হচ্ছে না। খানাখন্দে ভরা সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিকল হয়ে পড়ছে। দিনে-রাতে অধিকাংশ সময়েই সড়কের মণিহার মোড় থেকে বকচর কোল্ডস্টোরেজ পর্যন্ত তীব্র যানজট লেগেই থাকে।
রোববার সকালে মণিহার মোড় ফলপট্টি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ওই সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে যানজট। এসময় সাধারণ মানুষ ও গাড়িচালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। শরিফুল ইসলাম নামে খুলনাগামী একটি বাসের চালক ক্ষোভের সাথে বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে আমরা কষ্ট ভোগ করছি। অথচ সড়কের কাজ শেষ হচ্ছে না। মাত্র তিন কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ করতে এতোদিন সময় লাগে এমন নজীর কোথাও নেই।
সাখাওয়াৎ হোসেন নামে অপর এক ট্রাকচালক বলেন, সড়কের সামান্য এই অংশটুকু মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। জরাজীর্ণ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে গাড়ির মুল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের উন্নয়ন কাজের এমন ধীরগতি মেনে নেয়া যায়না।
এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী শেখ মাহবুবুর রহমান বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়কটির উন্নয়ন কাজের ওয়ার্কওয়ার্ডার বুঝে দিতে একটু বিলম্ব করে। এর বড় কারণ ছিলো জমি অধিগ্রহণ ও অবৈধ স্থাপনা জটিলতা। এরপর উন্নয়ন কাজের যাবতীয় উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা কিছুটা সমস্যায় পড়ি। সবমিলে কাজের গতি প্রথম দিকে কিছু সময় কম থাকলেও এখন আমরা পুরোদমে কাজ শুরু করেছি। তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বাধার পর বৈশ্বিক যে অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে তার বড় একটি প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশের রড-সিমেন্টসহ যাবতীয় নির্মাণ সামগ্রীর ওপর। একারণে আমাদের অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরও নির্ধারিত সময়ে সড়কটির শতভাগ কাজ শেষ হবে বলে তিনি দাবি করেন।
সড়কের কাজের ধীরগতি স্বীকার করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি সত্য। তবে আমরা ইতিমধ্যে মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কের ফোর লেনের কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছি। আমরা আশা করছি আগামী বছরের জুনের আগেই সড়কটির শতভাগ কাজ শেষ হবে।