খুলনার দিঘলিয়ায় হাটের ইট তুলে বিক্রি করে দিলেন ইজারাদার

মো. জামাল হোসেন, খুলনা॥ খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের কোলার হাটের সলিংয়ের প্রায় ৩০ হাজার সরকারি ইট তুলে বিক্রি করে দিয়েছেন হাট ইজারাদার মো. বুলু শেখ। এছাড়া তিনি ইজারার বাইরে গিয়ে অবৈধ উপায়ে হাটে দোকান প্রতি জমি বরাদ্দ বাবদ প্রতিটি দোকান থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। এমনকি ওই জমিতে ঘর তোলা বাবদ প্রতিটি ‘খুঁটি’র জন্যেও নেওয়া হচ্ছে ৩শ’ টাকা করে। এভাবে ৩ শতাধিক দোকান থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে কয়েক লাখ টাকা। সরেজমিনে এলাকায় ঘুরে মিলেছে এসব তথ্যের সত্যতা।
এদিকে, সরকারি সম্পদের এ লুটপাট চলছে প্রকাশ্যেই। তবে ইজারাদার সাবেক ইউপি মেম্বার ও প্রভাবশালী হওয়ায় এ বিষয়ে মুখ খোলার সাহস পান না স্থানীয়রা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতর সূত্রে জানা গেছে, গাজীরহাট ইউনিয়নের কোলার হাটের ১৪২৯ বাংলা বছরের জন্য ইজারা নেন সাবেক ইউপি মেম্বার মো. বুলু শেখ। কিন্তু সম্প্রতি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই হাটটি উঁচু করার জন্যে আগে থেকে বিছানো সলিংয়ের সরকারি প্রায় ৩০ হাজার ইট তুলে নিয়ে স্থানীয় কেটলা গ্রামের মাসুদ মোল্লার বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে রাখেন। বর্তমানে ওই ইট পর্যায়ক্রমে সেখান থেকে ৮ হাজার টাকা হাজার হিসেবে বিক্রি করছেন। এলাকায় গিয়ে মাসুদ মোল্লার বাড়ি থেকে তেরখাদায় তার বোনের বাড়িতে ট্রলিতে করে ৩ হাজার, পার্শ¦বর্তী মোল্লাডাঙ্গায় হোসাইন বিশ্বাসের বাড়িতে ১ হাজার, সোহরাব ডাক্তারের চেম্বারের সামনে ১ হাজার, তেরখাদার রমনা খাল সেতুর পাশে বাবুল শেখের বাড়িতে ৩ হাজার ইট নসিমনযোগে নিতে দেখা যায়। জানতে চাইলে ট্রলি ও নসিমন চালকরা এ ইট হাটের বলে নিশ্চিত করেন। এভাবে বুলু শেখ সরকারি ইট বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন কয়েক লাখ টাকা। পরে তিনি ওই হাটে বালু ভরাট করেন। বর্তমানে তিনি হাটে ব্যবসা করার জন্যে দোকান প্রতি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকাও গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বালু ভরাটের পর নতুন করে হাটের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী দোকান ঘর তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের জন্যে চারটি করে ঢালাই খুঁটি সরবরাহ করছেন ইজারাদার বুলু শেখ নিজেই। এমনকি ঘর তোলা বাবদ প্রতিটি ‘খুঁটি’র জন্যেও নিচ্ছেন ৩শ’ টাকা করে। সে হিসেবে একটি ঘরের জন্যে ৪টি খুঁটি বাবদ নেওয়া হচ্ছে ১২শ’ টাকা। ক্ষুদ্র ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা তার এ অবৈধ অর্থ দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোল্লা মফিজুল ইসলাম ঠান্ডুর সুনজর রয়েছে ইজারাদার বুলু শেখের ওপর। তিনিই বুলুকে বাজারের নেতৃত্বে বসানোর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। ফলে তিনি সরকারি ইট বিক্রি এবং বাজারের দোকানের জায়গা বরাদ্দের নামে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিলেও নীরব রয়েছেন চেয়ারম্যান।
হাটের সরকারি ইট তোলা এবং বালি ভরাট ও খুঁটি বাবদ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইজারাদার বুলু শেখ। তবে ইট বিক্রি এবং দোকান বরাদ্দ বাবদ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। বলেন, বালি ভরাটের বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার লে-আউট করে তাকে অনুমতি দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র তার কাছে আছে বলে দাবি করেন তিনি।
গাজীরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোল্লা মফিজুল ইসলাম ঠান্ডু বলেন, সরকারি হাটের ইট তোলা ও দোকান বরাদ্দ বাবদ টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। কোনো দোকানদাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়াও নিষেধ। এ রকম প্রমাণ থাকলে ধরা হবে।
এ বিষয়ে দিঘলিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ মারুফুল ইসলাম বলেন, হাটের ভিতর থেকে কোনো কিছু বিক্রি করার অনুমতি নেই। আর যদি ইট বিক্রি করে থাকে তাহলে ওই ইট আবার বালির ওপর বসিয়ে দেওয়া লাগবে। দোকান বাবদ টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি জায়গা থেকে টাকা নেওয়ার বুলু কে, পাল্টা এ প্রশ্নও করেন তিনি। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দোকান বরাদ্দ বাবদ টাকা নেওয়ার মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, ইজারাদার হাট থেকে শুধু টোল আদায় করতে পারবে। তবে এর বাইরে কোনো ধরনের অর্থ গ্রহণের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলে এবং খোঁজ খবর নিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।