মণিরামপুরে পাটের বাম্পার ফলন হলেও দাম কম, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

 

ওসমান গণি, রাজগঞ্জ (যশোর) ॥ গত মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ বছরও ব্যাপকহারে পাট করেছিলেন যশোর মণিরামপুর উপজেলার কৃষকরা। কিন্তু তীব্র তাপদাহ আর অনাবৃষ্টিসহ পানির অভাবে পাট জাগ দেয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। অব্যাহত তাপদাহের কারণে ক্ষেতের মাটি ফেটে চৌচির হচ্ছে। সেই সাথে শুকিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর জমির পাট। গত কয়েক বছর চাষিরা পাটের বাম্পার ফলন ও লাভের মুখ দেখলেও চলতি মৌসুমে মারাত্মক লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের হানুয়ার গ্রামের বিল্পব হোসেন গাজী, নজরুল ইসলাম, ইব্রাহিম হোসেন, সেলিম রেজা, ইউসুফ আলী গাজী, শামছুর রহমান গাজী, রেজাউল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, আবুল কাসেম, খালিয়া গ্রামের মাস্টার আব্দুস সাত্তার, রবিউল ইসলাম, কোমলপুর গ্রামের আব্দুর রহিম, দোদাড়িয়া গ্রামের আব্দুল মজিদ, আব্দুল আজিজ, আব্দুল জলিল, চালুয়াহাটি ইউনিয়নের রামনাথপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল হোসেন ও আব্দুল ওয়াদুদ, খেদাপাড়া ইউনিয়নের খোকা ও আজিবর রহমান, রোহিতা ইউনিয়নের রূপচাঁন আলী ও রাজু আহম্মেদ, হরিহরনগর ইউনিয়নের শৈলেন বাবু ও ইলিয়াস কবির, মশ্মিমনগর ইউনিয়নের ফারুক হোসেন ও আব্দুল আজিজসহ অনেক চাষি জানান, চলতি মৌসুমে পানির জন্য হাহাকার চলছে। কোথাও পানি নেই। পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পারায় এবার পাটের রং ও মান ভালো হবে না। পাশাপাশি বাজারে ভালো দামও পাওয়া যাবে না বলে জানান তারা। তাদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে পাট চাষ করে তারা মারাত্মক ক্ষতির সম্মূখিন হয়েছেন। যে কারণে আগামী মৌসুমে আর পাট চাষ করবেন না বলে জানান।
হানুয়ার গ্রামের পাট চাষি সেলিম রেজা ক্ষোভের সাথে জানান, চলতি মৌসুমে তিনি চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। শ্রমিক খরচসহ এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে মোট ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু বাজারে পাটের দরপতনসহ উৎপাদন খরচ যা হয়েছে তাতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা লোকসান হবে। ফলে আগামী মৌসুমে তিনি আর পাট চাষ করবেন না বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। ঝাঁপা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রসুল চন্টা জানান, চলতি মৌসুমে সাড়ে চার বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছেন তিনি। এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে কাটার পর পানির অভাবে পাট জাগ দিয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
রাজগঞ্জ বাজারের পাট ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান সরদার ও নজরুল ইসলাম জানান, সবেমাত্র বাজারে পাট উঠতে শুরু করেছে। এখন দাম একটু কম আছে। বর্তমান বাজারে নি¤œমানের পাট বিক্রি হচ্ছে ২২/২৩শ টাকা মণ। আর একটু উন্নতমানের পাট বিক্রি হচ্ছে ২৪/২৫শ টাকা মণ দরে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজারে পাটের দাম বাড়তে পারে বলে জানান এ ব্যবসায়ীরা।
মনিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৮টি ইউনিয়নে বিভিন্ন ধরণের চাষি রয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার। চলতি মৌসুমে দেশি ও তোষা জাতের পাট চাষ হয়েছিল ৫ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে। সেখানে চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৫শ ৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। যা গত মৌসুমের চেয়ে ১৫০ হেক্টর বেশি। পাটের বাম্পার ফলন হওয়ায় চলতি মৌসুমে ১৬ হাজার ২৭৫ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এছাড়া ক্ষেতে পাটের অবস্থা আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক ভালো। এখনও পাট কাটার সময় অব্যাহত রয়েছে। তবে, বৃষ্টি বা পানির মারাত্মক অভাবে উপজেলার সাড়ে ৪৪ হাজার চাষি তাদের পাট নিয়ে চরম হতাশায় রয়েছেন।