আ.লীগের দু’ গ্রুপের কোন্দলে শৈলকুপায় হামলা ভাঙচুর, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ পুলিশের

মফিজুল ইসলাম, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উভয়পক্ষের ৪০ বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও ২৫ জন আহতের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সোমবার সকাল সাতটার দিকে শৈলকুপা উপজেলার নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের শেখরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সূত্র মতে, নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়ন অওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক বর্তমান চেয়রম্যান মফিজ উদ্দিন বিশ^াস ও পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ফারুক বিশ^াসের সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বর্তমান চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন বিশ^াসের সমর্থকরা অভিযোগ করেন সাবেক চেয়ারম্যান ফারুকের সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে ফারুক সমর্থকরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিত্যানন্দনপুর ইউনয়নের বতর্মান চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন বিশ^াস ও সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক বিশ^াসের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত রোববার সন্ধ্যায় মাখন নামে ফারুক সমর্থক এক ব্যক্তিকে মফিজ সমর্থকের লোকেরা মারধর করে। এ ঘটনার জের ধরে সোমবার সকালে উভয় গ্রুপের সমর্থকরা ঢাল-সড়কি, রামদা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শেখরা গ্রামে ৪০টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়। হামলায় কাশেম আলী, মো. আতাহার, আজিজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, ফরিদুল ইসলাম. মো. তুহিন, মো. শহীদ, মো. সবুজ, ইয়াসিন, সুজন, আশরাফুল, নিশান, রাসেল, সোহাগ, মাজেদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, বাবলুসহ উভয় গ্রুপের ২২ জন আহত হন। এদের মধ্যে মাজেদুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এসময় তাহিরুল ইসলাম, মধু বিশ^াস, রেজাউল, শহীদ বিশ^াস, রাজ্জাক বিশ^াস, মনিরুল, কালাম মিয়া, রাজ্জাক মন্ডল, আতিয়ার রহমান, মিজান মন্ডল, বশির উদ্দিন, ওবাইদুল, মোশারফ, রফি মন্ডল, সালাম বিশ^াস, হবিবর শেখ, মোজাম শেখ, সাইফুল ইসলাম, শাহীন শাহাদত হোসেনসহ উভয় গ্রুপের ৪০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
মফিজ উদ্দিন বিশ^াস সমর্থক শেখরা গ্রামের আয়শা খাতুন অভিযোগ করেন, ফারুক সমর্থক শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
বর্তমান চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন বিশ^াস অভিযোগ করেন, ইউপি নির্বাচনে পরাজিত হয়ে সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক বিশ^াস বারবার তার সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে ।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক বিশ^াস বলেন, ইউপি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকে তিনি ও তার সমর্থকরা এলাকায় থাকতে পারছেন না। বর্তমান চেয়ারম্যান মফিজ সমর্থকরা নিজেরা নিজেদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়ে তার ওপর দোষ চাপাচ্ছে বলে জানান তিনি।
শৈলকুপা থানা পুলিশের ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখরা গ্রামে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে তিনি সাথে সাথে সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছেন এবং এলাকায় টহল অব্যাহত রেখেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ২ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বলে তিনি জানান।

Lab Scan
ভাগ