রামপালে বিএনপি নেতা আক্তার হত্যার দুই মামলায় ১৭ আসামির বিরুদ্ধে সিআইডির অভিযোগপত্র দাখিল

 

এম, এ সবুর রানা, রামপাল (বাগেরহাট)॥ বাগরহাটের রামপালের বহুল আলোচিত জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান খাঁজা মঈন উদ্দিন আক্তার হত্যা মামলায় ১৭ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। ২০১৯ সালে এ ঘটনা ঘটে এবং একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর চলতি বছরের ২০ জুলাই এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বাগেরহাটের সিআইডি ইন্সপেক্টর শাহানা আফরোজ খাঁন চৌধুরী পৃথক ২ টি মামলায় আদালতে ১৩২ ও ১৩২ (১) ধারায় এই সম্পূরক অভিযোগপত্র দুইটি দাখিল করেন।
অভিযুক্ত ১৭ জন হলেন মো. আহাদ শেখ, এম এআজিম, বাকিবিল্লাহ বেপারী, বাবুল কাজী ওরফে কাজী আসাফুজ্জামান, শিবলু আকুঞ্জী, শহিদুল ইসলাম মোড়ল, মো. খালিকুল শেখ, মো. দেলোয়ার ফকির (৫২), মো. তানভীর হাসান, আশিকুর রহমান আশিক, মিলন আকুঞ্জী, মো. শুকুর ফকির, মো. শাহাজান শেখ, আইয়ুব আলী শেখ, হাওলাদার রিজাউল করিম, মো. শাহিনুর ইসলাম ও মো. আফজাল হোসেন। এরা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। অভিযুক্তরা পথের কাঁটা সরাতে চেয়ারম্যান খাঁজা মঈন উদ্দিন আক্তা কে বোমা মেরে হত্যা করেন।
মামলা ও অভিযোগপত্রের সূুত্রে জানাগেছে, উপজেলার উজলকুড় ইউনিয়নের সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক খাঁজা মঈন উদ্দিন আক্তার ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় ভরসাপুর বাস স্ট্যান্ড বাজারে ছিলেন।
এ সময় মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আজিম শেখ, আহাদ শেখ, বাকিবিল্লাহ বেপারী, বাবুল কাজী ওরফে কাজী আসাদুজ্জামান, শিবলু আকুঞ্জীসহ পাঁচ/ছয় জন একটি প্লাষ্টিকের ব্যাগ নিয়ে খুলনা-মাংলা মহাসড়কের ভরসা পুর বাসস্টান্ডের দিকে আসেন। এ সময় পাশের একটি গলির মধ্যে আসামি বাবুল কাজী, শিবলু আকুঞ্জীসহ আরো সাত/আটজন একত্রিত হয়। এ সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আহাদ শেখ খাঁজা মঈন উদ্দিনকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে। এতে তিনি মারাত্মক ভাবে জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলাকারীরা এ সময় পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত চেয়ারম্যান আক্তারকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই মারা যান। নিহত চেয়ারম্যান খাঁজা মইন উদ্দিন আক্তার বামনডহর গ্রামের মরহুম সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৃত সোবহান শেখের পুত্র। এ ঘটনার পর তার শ্বশুর সাহেব আলী আকুঞ্জী বাদী হয়ে রামপাল থানায় ওই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে মামলাটি বাগেরহাটের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর কাছে যায়। পিবিআই মামলার আসামি শিবলু আকুঞ্জীকে আটক করে জেল হাজতে পাঠায়। এক পর্যায়ে মামলার অন্যতম আসামি আহাদ শেখ ও আজিম শেখ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। জিঞ্জাসাবাদে আহাদ শেখ আদালতে হত্যার দ্বায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। এরপর শহিদুল, খালেকুল ও তানভীর শেখকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে তদন্তে ওই আসামি এবং এজাহার নামীয় আসামি বাবুল কাজীসহ আসামীদের কে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে পিবিআই ইনস্পেক্টর শেখ শহিদুল ইসলামের মনগড়া অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।
পরবর্তীতে মামলার বাদী খাঁজা মঈন উদ্দিনের শ্বশুর আলহাজ সাহেব আলী আকুঞ্জী ওই অভিযোগ পত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজীর আবেদন করেন। আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য বাগেরহাটের সিআইডিকে নির্দেশ দেন। সিআইডির ইনস্পেক্টর শাহানা আফরোজ খান চৌধুরী ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর দায়িত্ব নেন এ মামলার।
তদন্তে তিনি ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আহাদ শেখের দেওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্যের কার্যক্রম চালাতে থাকেন। চার্জশিটভুক্ত আসামি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আশিকুর রহমান আশিক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মল্লিক মিজানুর রহমান মজনু, কথিত সাংবাদিক আজিম শেখ ও অর্থের জোগানদাতা এবং পরিকল্পনাকারী আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা বাবুল কাজী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দিতে এ হত্যার চক কষেন বলে তিনি তথ্য পান।
নৃশংস ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় সর্বশেষ গত ২০ জুলাই ২০২২ তারিখে সিআইডি ইন্সপেক্টর শাহানা আফরোজ আদালতে বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন। মল্লিক মিজানুর রহমান মজনু গত ফেব্রুয়ারিতে মারা যাওয়ায় মামলার দায় থেকে তাকে অব্যাহতির জন্যে সুপারিশ করা হয়।
এ ব্যাপারে জামিনে থাকা আসামি বাবুল কাজী ও আজিম জানান, তারা ষড়যন্ত্রের শিকার।

মামলার বাদী সাহেব আলী আকুঞ্জী বলেন, সিআইডি তদন্ত করে আদালতে অভিযোগ পত্র দিয়েছেন। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। তারা মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করছে। মামলা তুলে না নিলে তার জামাই এর মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান।
মামলার আইনজীবী ডক্টর এ কে আজাদ ফিরোজ টিপু অসুস্থ থাকায় তার অ্যাসোসিয়েট সদস্য অ্যাডভোকেট আবু জাহিদ আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে বাগেরহাটের সিআইডি ইন্সপেক্টর শাহানা আফরোজ খান চৌধুরীর সাথে তার মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, হত্যার ঘটনায় ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দুইটি অভিযোগ পত্র আদালতে দাখিল করে বিচার প্রার্থনা করা হয়েছে।

Lab Scan
ভাগ