বেশিরভাগ দুর্ঘটনা মোটরসাইকেলে চৌগাছায় সাত মাসে সড়কে মৃত্যু ১৪ জন

 

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে মোটরসাইকেলে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনারোধে প্রচলিত আইন যথাযথ প্রয়োগের দাবি উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারসহ উপজেলার সচেতনমহলের অভিমত, ১৮ বছরের নিচে কেউ যেন সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে না উঠে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে সড়কে। আহত হয়েছেন অনেকে। দিন, মাস পার হয়েছে এখনও থেমে থেমে স্বজনহারা পরিবারে চলছে আহাজারি। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরের দিন হাজরাখানা গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে শাহিনুর রহমান শাহি (২৪) ও একই গ্রামের বাবর আলীর ছেলে সাগর হোসেন (২২) মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন। ২২ ফেব্রুয়ারি চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের ফাঁসতলা বাজারের কাছে সড়কে বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় প্রাণ হারান মোটরসাইকেল আরোহী ইসমাইল হোসেন (৫৬)। এর আগে ৩ জানুয়ারি চৌগাছা-যশোর সড়কের আমবটতলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান তারনিবাস মহল্লার বাসিন্দা ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জিয়া (৪৫)। গত ২৫ মার্চ চৌগাছা-যশোর সড়কের কয়ারপাড়ার ইউপি ভবনের সামনে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মৃত্যু হয় পথচারী কয়ারপাড়া গ্রামের আসাদুল ইসলামের (৪৫)। একই মাসের ১ তারিখে চৌগাছা-কোটচাঁদপুর সড়কে মুক্তদাহ মোড় সংলগ্ন সড়কে দুর্ঘটনায় মারা যান কীটনাশক ব্যবসায়ী চৌগাছার দেবিপুর গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে বিপ্লব হোসেন ওরফে বিল্লাল (৪২)। ৪ এপিল চৌগাছা-মহেশপুর সড়কে কাভার্ডভ্যানের চাপায় রাজু আহমেদ (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। একই মাসের ৭ তারিখে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় টেংগুরপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে লিমন হোসেন (১৭) মারা যায়। ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে রাস্তায় হাঁটার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হন চৌগাছার মন্মতপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৬৭)। ১৭ মার্চ চৌগাছা-যশোর সড়কের ডিভাইন গার্মেন্টেসের সামনে অবৈধ আলমসাধু উল্টে চালক আছর উদ্দিন (৩৬) মারা যান। ৬ মে চৌগাছার টেংগুরপুর মোড়ে সড়কের বিট পার হওয়ার সময় স্বামীর মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে রোজিনা খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। ২ মার্চ দুপুরে চৌগাছা-যশোর সড়কের ব্র্যাক অফিসের সামনে ট্রলির ধাক্কায় মারা যান ভ্যানচালক নজরুল ইসলাম (৫৭)। ১২ মে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান ব্যবসায়ী ডালিম হোসেন (৫৬)। তিনি ফুলসারা গ্রামের শিক্ষক মরহুম আমজাদ হোসেনের ছেলে। পবিত্র ঈদুল আযহার আগের দিন চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের দামেদার বটতলা নামক স্থানে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী পৌরসভার জিওলগাড়ি মহল্লার নাজিমউদ্দিনের ছেলে উসমান (২২) গুরুতর আহত হন। তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সর্বশেষ ৪ আগস্ট মারা যায় কলেজছাত্র তারনিবাস মহল্লার হাফিজুর রহমানের ছেলে আরিফ হোসেন (১৮)। অধিকাংশ দুর্ঘটনার সাথে কোন না কোনভাবে মোটরসাইকেলের যোগসূত্র রয়েছে। যে কারণে সর্বমহল থেকে দাবি উঠেছে ১৮ বছরের নিচে কোন ব্যক্তি যেন মোটরসাইকেল নিয়ে সড়কে না উঠে। যদি কেউ সড়কে আসে তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাকে এবং মোটরসাইকেলের মূল মালিককে জেল-জরিমানাসহ মোটরসাইকেল জব্দ করবে।
চৌগাছার সিনিয়র সাংবাদিক আলমগীর মতিন চৌধুরী, কবি শাহানুর আলম উজ্জ্বল, কলেজ অধ্যক্ষ মনজুরুল আলম লিটু, ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, ব্যবসায়ী সুলতান মাহমুদ বলেন, সড়কে বর্তমানে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে মোটরসাইকেল। তাই বৈধ কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কাউকে মোটরসাইকেল নিয়ে সড়কে উঠা ঠিক না। বিশেষ করে অভিভাবকদের এ ব্যাপারে আরও সচেতন হতে হবে। শিশু সন্তানদের হাতে তারা যেন মোটরসাইকেল তুলে না দেন। উঠতি বয়সের ছেলেদের বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করেন তারা।

Lab Scan
ভাগ