অভয়নগরে বই লোপাটের ঘটনায় নাটকীয়তা! বদলে গেছে শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য

 

 

স্টাফ রিপোর্টার, অভয়নগর(যশোর)॥ যশোরের অভয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গুদাম থেকে বই লোপাটের ঘটনায় জড়িত বহুলালোচিত সেই খালিদকে বাঁচাতে খোদ শিক্ষা কর্মকর্তাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই কর্মকর্তা তার আগের বক্তব্যকে পাল্টে ফেলেছেন। যে কারণে বই লোপাটের ঘটনা নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নামে নাটকীয়তা অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গুদামের চাবি যার হাতে তাকেই তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
এদিকে ঘটনার পর থেকে শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম একভাবে বক্তব্য দিয়ে আসলেও গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে তার বক্তব্য পাল্টে গেছে। তিনি গতকাল এ প্রতিবেদকের সামনে দাবি করেছেন তার অফিস বা গুদাম থেকে কোনো বই বের হয়নি। যদিও ইেিতাপূর্বে তিনি গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছিলেন তার গুদাম থেকে বই বের হতে পারে। তাছাড়া তার গুদামের স্টক মেলানো সম্ভব নয়। এ প্রসংগে তিনি দাবি করেছিলেন, বিভিন্ন লোকের অনুরোধে বিভিন্ন সময় দুই দশ সেট বই দিতে হয় যে কারণে স্টক মেলানো সম্ভব হয়না।
শিক্ষা কর্মকর্তার এ দাবির পর সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, শিক্ষা অফিসের গুদাম থেকে বই লোপাট যদি না হয় তাহলে অফিস সহকারী খালিদকে কেন শোকজ করা হয়েছে? কেনই বা তদন্ত কমিটির নামে এ সকল নাটকীয়তা চলছে? এছাড়া শিক্ষা কর্মকর্তার এ দাবির পর স্থানীয় মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, ঘটনার দিন নওয়াপাড়া বাজারের যশোর-খুলনা মহাসড়কে প্রকাশ্য দিবালোকে শতশত মানুষের সামনে বই চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় ধরা পড়া বাবুল খান জানিয়েছিলেন শিক্ষা অফিসের খালিদ তাকে এ বইগুলো দিয়েছিলেন। এছাড়া ঘটনার দিন উপস্থিত শতশত লোক বাবুল খানের মোবাইল চেক করে ঘটনার আধঘণ্টা আগে থেকে ডায়াল ও রিসিভ কলে ৫বার খালিদের সাথে বাবুল খানের কথোপকথোনের চিত্র দেখতে পেয়েছিলেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে নানামুখি সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।
এদিকে তদন্ত কমিটি  বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে মুখ খুলতে রাজি হননি শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, তদন্ত প্রতিবেদনে কিছু অস্পূর্ণতা রয়েছে। বই সরবরাহকারী বাবুল খান উপস্থিত না হওয়ায় তদন্তের মেয়াদ বৃদ্ধি করে তাকে হাজির করার চেষ্টা চলছে।
অপরদিকে অভয়নগর উপজেলা শিক্ষা অফিসের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম দাবি করেছেন অফিস সহকারী খালিদের কাছে গুদামের চাবি থাকে না। গুদামের চাবি থাকে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশিকুজ্জামানের কাছে। অথচ সেই আশিকুজ্জামানকেই করা হয়েছে তদন্ত কমিটির সদস্য। ফলে তদন্ত কমিটির সুষ্ঠু তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। এদিকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করলেও পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে তার ব্যবহৃত নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

Lab Scan
ভাগ