ডলারের নতুন দরে সৌদি থেকে আসছে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ডলারের নতুন দরে সৌদি আরব থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কিনছে সরকার। প্রতি ডলার ৯৪ টাকা হিসেবে এই পরিমাণ সার কিনতে ব্যয় হবে ১৫৮ কোটি টাকা। এবারই প্রথমবারের মতো ডলার এই দরে বিদেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করা হচ্ছে। এর আগে টাকার বিপরীতে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা থেকে ৮৬ টাকা দরে বাইরে থেকে সার আমদানি করা হতো।
সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম আরো বাড়তে পারে। সেই সাথে খুব শিগগির দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদাও বাড়বে। এ অবস্থায় সৌদি আরবের সাথে চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় সার দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সার কেনার এই ক্রয় প্রস্তাবটি আজ অনুষ্ঠেয় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উত্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন ধরনের সারের দাম ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও কৃষকদের হাতে সময়মতো সার পৌঁছে দিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্ট কোম্পানি থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হচ্ছে। এতে ব্যয় হবে ১৫৮ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৬০০ টাকা। এর আগে দুই লটে ৬০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হয়েছিল।
কৃষি মন্ত্রণালয় চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ইউরিয়া সারের চাহিদা ২৬ লাখ মেট্রিক টন এবং নিরাপত্তা মজুদ কমপক্ষে ৮ লাখ মেট্রিক টনসহ মোট ৩৪ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করে। ওই চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিসিআইসির প্রণীত চলতি অর্থবছরের বার্ষিক সংগ্রহ পরিকল্পনা শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে ফার্ম ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন এবং আপৎকালীন ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য অপশনাল এক লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টনসহ মোট ৬ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সৌদি আরবের সাথে জি-টু-জি চুক্তির আওতায় ২০০৭ সাল থেকে ইউরিয়া সার আমদানি শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর সংশোধনী চুক্তি স্বাক্ষর করে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করা হচ্ছে।
গত ৭ এপ্রিল তারিখে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনক্রমে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সার আমদানির জন্য সৌদি আরবের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওই চুক্তির মেয়াদ ২০২৩ সালের ৩১ মে পর্যন্ত বলবৎ আছে।
এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি অর্থবছরে ইউরিয়া সারের সংগ্রহ পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশে ইউরিয়া সারের মোট চাহিদা ৩৪ লাখ মেট্রিক টনের মধ্যে গত ১ জুলাই পর্যন্ত মজুদ ছিল ৫ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন, সম্ভাব্য উৎপাদন ১০ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। ফলে ঘাটতি রয়েছে ১৭ লাখ ৮৩ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে ১৭ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন।
পরিকল্পনার আওতায় কাতার থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন, সৌদি আরব থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম ৫৬০ দশমিক ৮৩ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বিসিআইসি প্রত্যয়ন করেছে। চুক্তি অনুযায়ী সৌদি আরবের সরকারি প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়ার দর এফওবি আল জুবাইল বন্দর থেকে ৫৬০ দশমিক ৮৩ ডলার হিসেবে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মোট দাম এক কোটি ৬৮ লাখ ২৪ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলারের সমতুল্য বাংলাদেশী মুদ্রায় ১৫৮ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৬০০ টাকা (১ মার্কিন ডলার=৯৪ টাকা)।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ডিলার পর্যায়ে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের দাম ১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। যা গত ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের বর্তমান দাম ৮১ টাকা। ফলে, ৬ টাকা দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে প্রতি কেজিতে ৫৯ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

Lab Scan
ভাগ