বাগেরহাটে প্রবাহমান হোজির নদী দখল করে মাছ চাষ

 

বাগেরহাট সংবাদদাতা॥ বাগেরহাটে প্রবাহমান হোজির নদী দখল করে মাছ চাষ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ফলে নদীতে নাব্যতা সংটের পাশাপাশি কৃষকদের চাষাবাদে নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের মধ্যে নদীটি সম্প্রতি খনন করা হলেও দখলমুক্ত না হওয়ায় খননকাজে সরকারি টাকা অপচয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। ডেমা ইউনিয়নের হোজির ব্রিজের নিচে আড়া-আড়ি বাঁধ দেওয়াসহ আরও দুইটি স্থানে বাঁধ দিয়ে অন্তত ৬ কিলোমিটার নদী দখলে নিয়ে মাছ চাষ করছেন স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের লোকজন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাগেরহাট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের ৬৪টি জেলায় অভ্যন্তরীণ ছোট নদী, খাল ও জলাশয় খনন প্রকল্পের আওতায় ডেমা ইউনিয়নের হোজির নদীটি খনন করা হয়। সাড়ে ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নদীটি খননের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে ৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডেমা ইউনিয়নের হোজির ব্রিজ থেকে দক্ষিণ দিকে খেগরাঘাট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এবং ব্রিজ থেকে উত্তর দিকে বৈটেঘাটা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ হচ্ছে। নদীর উপর নির্মিত ব্রিজের নিচে দেওয়া বাঁধের উপর খুপড়ি ঘর নির্মাণ করে মাছ চাষের খাবারসহ বিভিন্ন মালামাল রাখা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলের লোকজনই প্রভাব খাটিয়ে নদীতে মাছ চাষ করে। বর্তমানে ডেমা ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল ইসলাম, ফরিদ মোল্লা, নকিব হাই, ফরহাদ শেখ, সাইফুল ফকিরসহ অন্তত ২০ জন এই খাল দখল করে মাছ চাষ করছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, তিন যুগের বেশি সময় ধরে এই নদীতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। যে দল ক্ষমতায় থাকে তারাই এই নদী ভোগ করে। এ বছর আমরা প্রায় ৭ লাখ টাকার গলদা, বাগদা, রুই ও কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছেড়েছি।
অবৈধ কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রশাসন নিষেধ করলে আমরা ছেড়ে দেব, সমস্যা নেই।
বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, ডেমা ইউনিয়নের একটি নদী দখল করে মাছ চাষের বিষয়টি আমরা জেনেছি। বাঁধ অপসারণ করে মাছ চাষ না করার জন্যে ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অতিসত্বর অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Lab Scan
ভাগ