বঙ্গোপসাগরে শিকারের অভিযোগে বিপুল পরিমাণ মাছসহ ৮টি ফিশিং ট্রলার ও ১৩৫ ভারতীয় জেলে আটক

 

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা॥ বঙ্গোপসাগরে অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকারের অভিযোগে ৮টি ফিশিং ট্রলারসহ ১৩৫ ভারতীয় জেলেকে আটক করেছে নৌবাহিনী। এ সময় সে সব ট্রলার থেকে বিপুল পরিমাণ মাছও জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাছের মধ্যে সামুদ্রিক ১ম দফায় ১৩ প্রজাতির আড়াইটন মাছ মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ‘ওপেন নিলামে’ বিক্রি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় অবশিষ্ট মাছ বিক্রির কথা রয়েছে।
সোমবার রাত ১০টার দিকে গভীর সমুদ্রে টহলরত নৌবাহিনী তাদের আটক করে। এদের মধ্যে প্রথম দফায় ৬৭ ভারতীয় জেলেকে বুধবার মোংলা পুলিশ আদালতের মাধ্যমে বাগেরহাট কারাগারে পাঠিয়েছে। আটক অপর জেলেদের দ্বিতীয় দফায় আজ বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে পুলিশের কারাগারে পাঠানোর কথা রয়েছে।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, আটটি ট্রলার ও ১৩৫ জন ভারতীয় জেলেকে আটক করা হয়েছে। তারমধ্যে প্রথম দফায় ৬৭ জন জেলে ও চারটি ট্রলার মঙ্গলবার রাতে আর বাকি ট্রলার ও জেলেদের গতকাল বুধবার থানায় হস্তান্তর করে নৌবাহিনী। দুই দফায় থানায় হস্তান্তর করা জেলেদের বিরুদ্ধে সমুদ্রসীমা লঙ্ঘন আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
ওসি আরো জানান, আটককৃতদের মধ্যে প্রথম দফায় ৬৭ ভারতীয় জেলেকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে বাগেরহাট কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আটক অবশিষ্ট জেলেদের দ্বিতীয় দফায় বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর কথা রয়েছে।
মোংলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আটটি ট্রলারের মধ্যে ৪টি ট্রলারের আড়াই টন ১৩ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়। এ সময় উন্মুক্ত নিলামে আড়াই টন মাছ সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। মাছ বিক্রির এ টাকা সরকারের রাজস্ব খাতে জমা দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।
জব্দ মাছের মধ্যে রয়েছে ইলিশ, কামট, লইট্যা, ঢেলা, কাঁকড়া, মোচন, তাড়ুল, কৈভোল ও শাপলাপাতাসহ ১৩ প্রজাতির মাছ। এ কর্মকর্তা আরো জানান, আটক অপর ৪টি ট্রলারের মাছও একই প্রক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার নিলামে বিক্রি করা হবে।