আশ্বাস নয়, অ্যাকশন চাই

যেখানেই নির্মাণ, সেখানেই দুর্নীতি, যেখানেই উন্নয়ন সেখানেই লুটপাট-ফাঁকিবাজি উঠতে বসতে চায়ের আড্ডায় বহুল প্রচলিত এই গণঅভিযোগ আবারো সত্য প্রমাণ হয়েছে। গতকাল দৈনিক লোকসমাজসহ শীর্ষ দৈনিকে প্রকাশিত একটি ছবি ও খবর তারই সাক্ষ্য দিয়েছে। খবরটি উত্তরবঙ্গের। কিন্তু জাতীয় গুরুত্বের কারণে সব অঞ্চলেই গুরুত্ব পেয়েছে। খবরটির শিরোনাম হচ্ছে, নির্মাণ শেষ হবার আগেই ৩ ফুট দেবে গেলো মহাসড়ক। পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিতে দেবে যাওয়ার চিত্র মারাত্মক হলেও পাঠক দর্শক কেউ অবাক হয়েছে বলে মনে হয়নি। কারণ, এ দৃশ্য এখন সর্বত্র। এইতো ক’দিন আগে টাঙ্গাইলে ধসে পড়লো নির্মাণাধীন সেতু। তার আগে দেশের অধিকাংশ জেলায় ধসে পড়লো প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব মানবিক প্রকল্প আশ্রয়নের ঘর। শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কে পিচ গলে পদ্মার ঢেউ প্রদর্শনের দৃশ্য তো সর্বত্র। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে এই দুর্নীতিবাজদের কিছু হয়েছে এমন খবর কার্যত দেখতে না পাওয়া।
খবরে বলা হয়েছে, নওগাঁ-নাটোর সাড়ে ৪৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ দুই ধাপে সম্পূর্ণ হচ্ছে। ২০০৫ সালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন দেয়। পরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সীমিত আকারে ৫০ কোটি টাকার অনুমোদন দেয়। ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নাটোরের নলডাঙ্গায় নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এরপর ওই টাকায় প্রথম ধাপে ২০০৭ সালে নওগাঁর ঢাকার মোড় থেকে নাটোরের নলডাঙ্গা পর্যন্ত মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়। যেখানে নওগাঁর অংশে ২৬ কিলোমিটারের মধ্যে সাড়ে সাত কিলোমিটার এবং নাটোর অংশে সাড়ে ২২ কিলোমিটারের মধ্যে ১৬ কিলোমিটার সড়ক পাকা করা হয়। সরকার পরিবর্তনে নতুন করে অর্থায়ন না হওয়ায় ২৩ কিলোমিটার সড়ক পাকা হওয়ার পর হাইড্রোলজি সমীক্ষার নামে বন্ধ হয়ে যায় সড়কটির নির্মাণ কাজ। বাকি সাড়ে ২৫ কিলোমিটার সড়ক গো-চারণভূমিতে পরিণত হয়।
এরপর এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে একনেকে অনুমোদনের পর সেতু ও কালভার্টসহ সাড়ে ২৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২০১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ।
এরপর মহাসড়কটির আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা এলাকায় প্যালাসাইডসহ সড়কের উত্তর পাশ দুদিন আগে ফাটল দেখা দেয় এবং ২৫ জুন সকালে মূল সড়ক থেকে প্রায় তিন ফুট দেবে গিয়ে দেড়শ ফুট ধসে গেছে। এতে যানবাহন চলাচল বিঘœ হচ্ছে। পাশের অংশে ইট দিয়ে যান চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। এলাকাবাসী সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি ও অবহেলার অভিযোগ করেছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে এ অভিযোগ করছেন, কিন্তু কেউ নাকি শুনছে না।
এ বিষয়ে নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, হঠাৎ করেই ভালো সড়কটি নিচের দিকে দেবে যাচ্ছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটা একটা বিশেষ ধরনের ফল্ট (ত্রুটি)। এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কী কারণে এমনটা হয়েছে আমরা তা দেখবো। আমরা জানি, তিনি এমনটাই বলবেন। এটাই এখন দুর্নীতি সম্পর্কে কর্তাদের মুখস্ত কবিতা। এই কবিতা আবৃত্তি কবে থামবে জানি না। তবে এটা থামানো প্রয়োজন, কারণ মানুষ আশ্বাস নয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অ্যাকশন চায়।

Lab Scan
ভাগ