দৌলতদিয়া ঘাটে ভোগান্তি কমলো

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বহুল কাঙ্খিত পদ্মা সেতু চালুর প্রথম দিন থেকেই রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি গুলোকে যানবাহনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। এছাড়াও সড়কও অনেকটা ফাঁকা ছিলো। ধারণা করা হচ্ছে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ায় এই রুটের ব্যবহারকারী উৎসুক মানুষ বেশিরভাগ বহুমুখী পদ্মা সেতু দিয়ে পারাপার হয়েছে, যার ফলে গতকাল ও আজ দৌলতদিয়া ঘাট অনেকটা ফাঁকা।
বিআইডাব্লিউটিসি ঘাট সূত্র বলছে, এখনি ঘাটের পরিস্থিতি বোঝা যাচ্ছে না। সেতু চালু হয়েছে বলে অনেকেই সেখান দিয়ে পারাপার হচ্ছে যার কারণে ঘাট কিছুটা ফাকা, চালুর যে প্রভাব কিছুটা হলেও এই দিকে পরবে, তবে এই প্রভাব বুঝতে হলে সপ্তাহ বা মাস হলে এর বাস্তব চিত্র ফুটে উঠবে।
সরজমিন দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায় ঘাটের জিরো পয়েন্ট এ অপেক্ষমান যানবাহনের সংখ্যা অনেকটা কম অন্যান্য সময়ে যেখানে জিরো পয়েন্ট হতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানযট লেগে থাকতো সেখানে পদ্মাসেতু যানবাহন পারাপারে দিন থেকেই ঘাট ফাকা যাচ্ছে, ফেরি গুলোকে দেখে গেছে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে।
তবে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হোটেল মালিক ও হকাররা পরেছে দুশ্চিন্তায়, তাদের ব্যবসার মূল আয় আসতো এই যানবাহন ও তাদের যাত্রীদের কাছে খাবার, বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে। তারা বলছে যানবাহন কমে গেলে যাত্রী কমে গেলে তাদের আয় কমে যাবে।
কুষ্টিয়া থেকে আসা ট্রাক চালক আসলাম জানান, এমনি সময় পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক আগে পারাপার করানোর হলেও আজ আমরা অনেক তাড়াতাড়ি ঘাটে এসেছি, বেশিরভাগ সময় ঘাটে আমাদের ৮-৯ ঘণ্টা সিরিয়ালে থাকতে হত কোন কোন সময় ২ থেকে ৩ দিনের ফেরি জন্য অপেক্ষাত পর ফেরিতে উঠতে হত কিন্তু আজ ভোগান্তি ছাড়াই ঘাটে এসেছি।
ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা গোল্ডেন লাইনের চালক জানান, নতুন রুট পরিকল্পনা করা হলে এই দিকের যাত্রী সংখ্যা কিছুটা কমে যাবে। ঢাকার কয়েক এলাকার যাত্রী যারা গাবতলী টার্মিনাল ব্যবহার করে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াত করে তাদের একাংশ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ব্যবহার করবে। এছাড়া পদ্মাসেতু দিয়ে মালিক কর্তৃপক্ষ বাস ছাড়বে শুনেছি।
কথা হয় এক ঢাকাগামী যাত্রীর সাথে, তিনি জানান সারা বছর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে থাকতে হত, এখন এই ভোগান্তি কমে যাবে। তবে যারা মিরপুর, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার যাবে তাদের এই রুট দিয়ে যেতে হবে। তবে আমার মত যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।
বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিহাব উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ফেরি সংখ্যা কমানোর কোন নির্দেশনা পাইনি। যদি এই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহনের পারাপার সংখ্যা কমে গেলে তখন বিকল্প ব্যবস্থা নিবে। পদ্মা সেতু চালুর প্রথম দিন ঘাট কিছুটা থাকলেও এর কেমন প্রভাব পরবে তা এখনি বলা যাচ্ছে না।

Lab Scan
ভাগ