শৈলকুপায় কাঁঠালের দামে হতাশ চাষি

মফিজুল ইসলাম, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) ॥ শৈলকুপায় কাঁঠালের ফলন ভালো হলেও দামে হতাশ বাগান মালিকেরা। হাসিমুখে কাঁঠাল নিয়ে বাজারে গেলেও বিক্রি শেষে ফিরতে হচ্ছে বিষন্ন মন নিয়ে। মালিকেরা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর কাঁঠালের দাম অনেক কম।
দেশের কাঁঠাল উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর মধ্যে শৈলকুপা অন্যতম। এখানে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার হাট বসে। প্রতি হাটে ১০ থেকে ১৫ ট্রাক কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন জেলায় যায় । সাপ্তাহিক হাটের আগের দিনই ব্যাপারী, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ভিড় জমান এখানকার হাট-বাজারে। ব্যাপারীরা জানান, গত বছরের চেয়ে পাইকারি বাজারে কাঁঠালের দাম শতকরা ৪০ থেকে ৫০ ভাগ কম।
উপজেলা হাটে দেখা যায়, বিক্রেতারা কাঁঠাল সাজিয়ে বসে আছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ব্যাপারীরা দর দাম করে সেগুলো কিনছেন। বাজারে ছোট, মাঝারি ও বড় বিভিন্ন আকারের কাঁঠাল রয়েছে। ট্রাক, নসিমন ছাড়াও বিভিন্ন যানবাহনে ব্যাপারীরা কাঁঠাল ওঠানোর কাজে ব্যস্ত। এবার প্রতি শত কাঁঠাল আকারভেদে ২ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাঁঠাল বিক্রি করতে আসা উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, তাঁর ২০টি কাঁঠাল গাছ রয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে। গাছের ১০০টি কাঁঠাল গড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। দাম বেশি পাবেন আশা ছিল, কিন্তু এ বছর দাম একেবারেই কম।
যশোর থেকে আসা ব্যাপারী মফিজুল ইসলাম বলেন, এখানে ভালো মানের কাঁঠাল পাওয়া যায়, তাই কিনতে এসেছি। তবে এবার বাজার দর গতবারের চেয়ে অনেক কম। ফলন বেশি রয়েছে তবে দাম কম থাকায় কিনতে সুবিধা হচ্ছে বেশি।
শৈলকুপা উপজেলা কৃষি সস্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল হাসনাত বলেন, শৈলকুপায় ৩৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে কাঁঠালের চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে পাওয়া যাবে আনুমানিক ২০ হাজার টন কাঁঠাল। তবে এ বছর আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় হতাশ বাগান মালিকেরা।

 

Lab Scan
ভাগ