কোরবানির হাট : যশোরে চাহিদার বেশি পশু

লোকসমাজ ডেস্ক॥ মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রভাব মুক্ত এবারের ঈদুল আযহা। যেকারণে জেলার পশু খামারিরা আগেই থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন কোরবানির বাজারের জন্য। এবারের ঈদে পশুর চাহিদা রয়েছে ৯১ হাজার ১৮৮টি পশু। আর খামারিদের মধ্যে পশু রয়েছে ৯৫ হাজার ১৫৩টি। এরমধ্যে গরু রয়েছে ২৯ হাজার ১৭০টি ও ছাগল-ভেড়া রয়েছে ৬৫ হাজার ৯৮৩টি। উদ্বৃত্ত থাকছে ৩ হাজার ৯৬৫টি। চলতি বছর গরু ছাগলের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। যেকারণে খামারিদের মধ্যে রয়েছে স্বস্তির বাতাস।
সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের রহেলাপুর গ্রামে ৭০ বিঘা জমির উপর গরু মাছের খামার গড়ে তুলেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন। তার খামারে বর্তমানে ৪২টি গরু রয়েছে। যার মধ্যে আসন্ন কোরবানী ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ২০টি। তিনি বলেন, আমার খামারের গরুগুলোকে ঘাস, ভুসি,ভাত, খৈল ও এসিআই কোম্পানির ফিড খাওয়ানো হয়। এদের মোটাতাজা করণের কোন ওষুধ সেবন করা হয়নি। খামারে ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার গরু রয়েছে।
অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি গ্রামে রয়েছে পরশ অ্যাগ্রো লিমিটেডের ২০২টি গরু। গরুগুলো আসছে ঈদে বিক্রি করবেন বলে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মো: হাসানুজ্জামান বলেন, আমরা বাণিজ্যিকভাবে গরু লালন-পালন করি। আমাদের খামারে সব গরু দেশি প্রজাতির। ক্রেতাদের পছন্দ হবার পর আমরা দরদাম করে গরু বিক্রি করব।
যশোর সদরের বাহাদুরপু গ্রামের জহিরুল ইসলাম ১০টি দেশি গরু লালন পালন করছেন। প্রতিদিন একটি গরুর পেছনে তার ব্যয় হচ্ছে ১৭০-২শ টাকা করে। তিনি জানান, আমরা আশা করছি এবারের ঈদে গরুর ভালো দাম পাবো। কেননা গতবার চাহিদা অনুযায়ী পশু বিক্রি করতে পারেনি।
জানা গেছে, অধিকাংশ খামারি নিজেদের গচ্ছিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজি বিনিয়োগ করে কুরবানির পশু পালন করছেন। আবার অনেকের রয়েছে ব্যাংক ও এনজিওর ঋণ।

চৌগাছায় কুরবানির গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন খামারিরা

জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এবারের কুরবানিতে জেলায় ৯১ হাজার ১৮৮টি গরু ও ছাগলের চাহিদা রয়েছে। সেই হিসেবে জেলার ৮ উপজেলায় ৯৫ হাজার ১৫৩টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। চাহিদার চেয়ে ৩ হাজার ৯৬৫টি বেশি গরু ও ছাগল রয়েছে।
খামার ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, ভারতীয় গরুর চাপে আগে এই খাতে কোন সুফল পাননি। অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে গত ৪ বছর ভারতীয় গরু না আসায় সুফল আসতে শুরু করে খামারিদের। কিন্তু গত বছর করোনায় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়েছিল খামারিদের। এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন তারা।
চৌগাছা উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা প্রভাষ চন্দ্র গোস্মামি বলেন, উপজেলার খামারগুলো কোরবানীতে পশু বিক্রি করতে প্রস্তুত রয়েছে। তার নিয়ন্ত্রণে খামারগুলোতে সকল গরু সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান।
যশোর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মো: রাশিদুল হক জানান, এবারের কোরবানির ঈদে চাহিদা মিটিয়েও অতিরিক গরু ও ছাগল উদ্বৃত্ত থাকবে। আমরা খামারিদের সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখছি।

 

 

Lab Scan
ভাগ