জমে উঠেছে যশোর শিল্পকলা একাডেমির নির্বাচন

তহীদ মনি ॥আর মাত্র ৯ দিন পর যশোর শিল্পকলা একাডেমির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন। ৮টি পদে ৮ জন প্রার্থী নির্বাচিত হবেন ৯৭৫ ভোটারের গোপন বোটে। নিয়মানুযায়ী শিল্পকলার কমিটির ১৫টি পদের মধ্যে ২টি নির্ধারিত। সভাপতি পদে পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক এবং কোষাধ্যক্ষ পদে জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার নির্ধারিত। তাছাড়া জেলা প্রশাসক কমিটিতে তার মনোনীত একজনকে নিয়োগ দেবেন। একইভাবে শিল্পকলার মহাসচিব (ডিসি) ৪ জনকে ওই কমিটিতে মনোনীত করবেন। অবশিষ্ট ৮টি পদে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাররা নির্বাচিত করবেন।
এই ৮টি পদের জন্যে লাল-সবুজ পরিষদ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সভাপতি পদে আহমেদ সাইদ বুলবুল ও সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু, যুগ্ম সম্পাদক পদে অনুপম দাস ও চঞ্চল কুমার সরকার, সদস্য ৩ জন হলেন- অ্যাড. বাসুদেব বিশ্বাস, শহিদুল হক বাদল এবং ডা. মো. আতিকুজ্জামান রনি।
একইভাবে রংধনু পরিষদ থেকে সহ-সভাপতি পদের দু’জন হলেন, মো. জাহাঙ্গীর আলম ও আসাদ আসাদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক পদে রওশন আরা রাসু, যুগ্ম সম্পাদক পদের দুইজন হলেন- মো. আনিসুজ্জামান পিন্টু ও মো. নাসির উদ্দীন মিঠু এবং সদস্য পদের ৩ জন হলেন- প্রদীপ চক্রবর্তী রানা, সাজ্জাদ গনি খান রিমন ও মো. ফয়সাল খান।
জেলা শিল্পকলা একাডেমী যশোরে এই ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে এখন জোরদার প্রচারণা চালাচ্ছে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ দুটি প্যানেল। লাল-সবুজ পরিষদ ও রংধনু পরিষদ নামের প্যানেল দুটি প্রত্যেকেই জয়লাভের স্বপ্নে বিভোর। একটি প্যানেল মনে করছে ভোট হয়েই গেছে শুধু গণনা শেষ হওয়ার অপেক্ষা। অন্য প্যানেলের ভাবনা ভোটার ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা এখন পরিবর্তন চায়। ফলে, জয় তাদের সুনিশ্চিত। তবে এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিযা। অনেকের ভাবনা প্রার্থীদের অনেকেই পাসের জন্য প্যানেল বদল করছে আসলে দীর্ঘদিন থেকে তাদের দেখা হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন প্যানেল দুটির প্রার্থীরা সাধারণ ভোটারের চেয়ে সমাজের এলিট ও নামডাকওয়ালা ভোটারের দারে ধর্না দিচ্ছে। এতে সাধারণ ভোটারকে একপাশে রাখা হচ্ছে। তবে উভয় প্যানেলের প্রার্থীদের দাবি তারা ভোটারদের কাছে ছুটছেন। ভোটাররা তাদের সাথে আছে।
দু’টি প্যানেলই বিভিন্ন পন্থা এবং মাধ্যমে তাদের জোরদার প্রচারণা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় সংবাদপত্র হাউজ, প্রেস ক্লাব, শহরের এলিট ও পরিচিত মুখ ও সংগঠনে গণসংযোগ করছে। যে সব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করে নিয়মিতভাবে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। তাছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের কার্যালয়ে দফায় দফায় বৈঠকের ছবি ও তথ্য প্রকাশ করছে। সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্বে আসতে চাওয়া এসব মুখ প্রচারে খুব বেশি কাদা ছোঁড়াছুড়ি না করলেও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে নানা তথ্য ও কর্মকান্ড তুলে ধরছেন। দলীয় ফোরামের নির্বাচন না হলেও দলীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে করা কাজগুলিও প্রচারে আনছেন। অনেকের পক্ষে ফেসবুকে দলীয় অনেকেই ভোট পার্থনা করছেন, তাদের প্রার্থীর গুণগান করছেন। কিন্তু শিল্পকলা একাডেমি বছরের পর বছর কতজন শিল্পী আবৃত্তিকার, নাট্যভিনেতা বা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক কর্মী সৃষ্টি করতে পেরেছেন। কতটা জাতীয় খেতাব, মেডেল এলো, অর্জিত হলো, কতটা সম্মান এর ফিরিস্তি কোথাও নেই বলে অভিযোগ সাধারণ ভোটারদের। অনেক ভোটরের কর্তব্য কেউ কেউ ব্যস্ত পদ পেতে কেউ কেউ মরিয়া পদ ধরে রাখতে। বেশ কিছু মুখ যশোরের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। তাদের সংগঠনের প্রোগ্রামে দর্শক-শ্রোতা ঠেলে ফেলা যায় না। কিন্তু তারা শিল্পকলার কর্মকর্তা হিসেবে আয়োজিত কর্মসূচিতে ফাঁকা চেয়ারই পূরণে ব্যর্থ হন। অনেকের অভিযোগ শিল্পকলাকে পুঁজি করে তারা নিজেদের সংগঠনের আগেরই গোছান শুধু। এ জাতীয় সমালোচনা করা ভোটারদের দাবি, নতুন মুখ আসুক যারা শুধু শিল্পকলার ও যশোরে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের উন্নয়নে কর্মকান্ড করবেন।


দুটি প্যানেলের প্রচারপত্র বা লিফলেট বেশ কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রচারণার ক্ষেত্রে। শুদ্ধ সংস্কৃতির বিকাশ হোক, বাধাহীন শ্লোগান দিয়ে রংধনু পরিষদ তাদের প্রচারপত্রে লিখেছে, বিগত নির্বাচিত কমিটি দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাচারী আচরণে এাক ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিল্পকলার কার্যক্রমে ভীষণভাবে ব্যাহত করে ব্যর্থতার প্রমাণ রেখেছে। বিগত ২০১৩ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত পর পর তিনবার বিশেষ কৌশলে কিছু মানুষ এই প্রতিষ্ঠানকে কুক্ষিগত করে শিল্প চর্চার প্রকাশ ও বিকাশে বন্ধাত্ব সৃষ্টি করেছে । আসুন দক্ষতায়, আসুন স্বচ্ছতায় এই শ্লোগান নিয়ে মাঠে নামা লাল-সবুজ পরিষদের দাবি আগামী দিনের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে তাদের প্যানেলে ভোট প্রার্থনা করেছে। তারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের কোনো ব্যর্থতা তাদের প্রচারপত্রে না লিখলেও তাদের মূল দাবি, ওই প্যানেলে সাংস্কৃতিক সংগঠন তেমন নেই। নিজেদের সাথে যশোরের ২৬টি সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে দাবি করে লাল-সবুজ প্যানেলের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রায় কী কী করেছেন, এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলে কতগুলো মুখ যশোর সাংস্কৃতিক উন্নয়নের সাথে রয়েছেন বা ছিলেন তা জানতে চান। লাল-সবুজ পরিষদের সহ-সভাপতি প্রার্থী আহমেদ সাঈদ বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী অ্যাড. মামুদ হাসান বুলু নিজেদের অতীত কর্মকান্ড তুলে ধরে ভোটাররা তাদের সাথে আছেন দাবি করেন। ওই প্যানেলের সমার্থক অনেক ভোটার মনে করেন, ৩ থেকে ৪শ’ প্যানেল ভোট তারা পাবেন। রংধনু পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা পর্ষদের আহ্বায়ক কাসেদুজ্জামান সেলিম জানান, তাদের কথা তাদের প্রচারপত্রেই রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওরা যদি ৩শ’ প্যানেল ভোট পায় রংধনুও ৩শ’ প্যানেল ভোট পাবে। তার মতে, সাধারণ ভোটাররা পরিবর্তনের জন্যে উল্লেখ। একই রকম আশাবাদ এই প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রওশন আরা রাসুর। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যশোরে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনায় তার ও তার নেতৃত্বাধীন প্যানেলের কথা যশোরবাসী মনে রাখবেন। তবে, উভয় প্যানেলের প্রতি কিছু ভোটারের ক্ষেত্রে ও অভিযোগ রয়েছে। তারা চান, অতীত নিয়ে এবং শিল্পকলার অর্জন ছাড়া অন্যান্য কর্শকান্ডকে অত প্রাদান্য না দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে হবে। শিল্পকলা হবে যশোর সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের লীলাভূমি সৃষ্টি হবে নতুন নতুন সাংস্কৃতিক মুখ। যারা আনবে সুনাম ও সম্মান। মুখচেনা নয়, যোগ্যকর্মী আসুক নেতৃত্ব এমনটিই আশাবাদ তাদের।

Lab Scan
ভাগ