রাজগঞ্জে আমন বীজ সংকট

ওসমান গণি, রাজগঞ্জ (যশোর)॥ আমন ধান রোপনের সময় এসেছে। বহু কষ্টের পর বোরো ধান ঘরে তোলার পর যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলের চাষিরা এখন আমন ধান রোপণের জন্য বীজতলা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি এ অঞ্চলের চাষিরা আগেভাগেই জমি তৈরি করার জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু বৃহত্তর এ উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের রাজগঞ্জসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে চাষিরা উচ্চ ফলনশীল ভালো মানের ধানের বীজ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
উচ্চ ফলনশীল ৫১ জাতের ধান চাষে চাষিদের আগ্রহ বরাবরই বেশি। অথচ এ জাতের ধান উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের বিএডিসির ডিলারদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে দ্বিগুণ টাকা দিলে খুচরো বীজ ব্যবসায়ীদের কাছে এ ধান পাওয়া যাচ্ছে। এ বছর আমন মৌসুমে বীজ ফেলার সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত বিএডিসি ৫১ ধানের বীজ প্রদান করেনি।
ঝাঁপা ইউনিয়নের চাষি মোস্তফা ঢালি ও বিপ্লব হোসেন এবং দাউদ গাজীসহ অনেক চাষি জানান, খুচরা বাজারে কেজি প্রতি ৫৫ টাকার বীজ ৯০ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি। অথচ সরকারি ডিলারদের কাছে এ বীজ না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষক।
ঝাঁপা ইউনিয়নের হানুয়ার গ্রামের কৃষক গাজী ইউসুফ আলী জানান, সরকারি অধিদপ্তর থেকে যে বীজ দেয়া হয় তা খুবই উন্নতমানের। গতবার আমি আমন ধানের বীজ পেয়েছিলাম। সেই বীজ লাগিয়ে বাম্পার ফলনও পেয়েছি। তাই তো এবারও এসেছি আমন ধানের বীজ নিতে। কিন্তুু বীজ পাওয়া যাচ্ছেনা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝাঁপা ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা ভগিরাত চন্দ্র জানান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএডিসি থেকে আমনের বীজ দেয়া হয়। সম্প্রতি ৫১ধানের বীজ সমান্য সংকট থাকায় কৃষকদের মাঝে বিতরণ করতে অনেটা সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য বীজের কোন সংকট নেই বলে জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।
বিএডিসির ডিলার মণিরামপুরের তপন কুমার, রাজগঞ্জ অঞ্চলের আছাদুজ্জামান আসাদ জানান, ভিত্তি ৫১ কেজি ৫৫টাকা, প্রত্যায়িত ৪৭টাকা, ব্রি ভিত্তি ৭৫-৫৫টাকা, প্রত্যায়িত ৪৯টাকা,ব্রি ৩৯ ভিত্তি ৫৩টাকা, প্রত্যায়িত ৪৭টাকা, ব্রি ৮৭ ভিত্তি ৫৫টাকা, প্রত্যায়িত ৪৯টাকা, বিনা-৭ ভিত্তি ৫৩টাকা ও বিনা -১৭-৫৫টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী ৫১ ধানের বীজের সরবরাহ অনেকটা কম থাকায় ডিলারদের পক্ষে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে মণিরামপুর উপজেলা বিএডিসির উপসহকারী পরিচালক মুছা আহম্মেদ বলেন, বাজারে শুধু মাত্র ৫১ধানের বীজ সংকট থাকতে পারে। কারণ একটি পৌরসভাসহ ১৮টি ইউনিয়নের প্রতিটা ডিলারের বরাদ্দ মাত্র তিন বস্তা করে ধান। এছাড়া অন্যান্য ধানের বীজের কোন সংকট নেই বলে দাবি করেন বিএডিসির শীর্ষ এ কর্মকর্তা।

 

Lab Scan
ভাগ