চিতলমারীতে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মামলায় আসামি ৩ শতাধিক গ্রেপ্তার ২৩

 

বাগেরহাট সংবাদদাতা॥ বাগেরহাটে চিতলমারীতে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.) কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কলেজ ছাত্রীর অবমাননাকর পোস্টকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। দুটি মামলায় ৩ শতাধিক আসামি করা হয়েছে। তাছাড়া মামলা দুটির ২৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চিতলমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামিম হাওলাদার বাদী হয়ে ৫৯ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.)কে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি এবং অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় শেরে বাংলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রুবেল মুন্সি বাদী হয়ে কলেজ ছাত্রী রনিত বালা রনিকে আসামি একটি মামলা করেছেন। ভাঙচুরের মামলায় ২২ জন এবং ধর্ম অবমাননার মামলায় রনিত বালাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বাগেরহাট আদালতে সোপর্দ করেছে চিতলমারী থানা পুলিশ। এনিয়ে দুই মামলায় ২৩ জনকে গ্রেপ্তার হয়েছে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী পুলিশ পরিদর্শক এস এম আশরাফুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ধর্ম অবমাননা নিয়ে সৃষ্ট অনাকঙ্খিত ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়েছে। ভাঙচুরের মামলায় ২২জনকে এবং ধর্ম অবমাননার মামলার একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উল্লেখ, ফেসবুক আইডিতে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.)কে কটূক্তি ও অবমাননা করে পোস্ট দেওয়া এবং ভিডিও ভাইরাল করার অপরাধে রোববার রাতে শেরে বাংলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী রনিত বালা রনি (১৮)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে রনিত বালা রনির বিচারের দাবিতে মিছিল করে এবং থানায় প্রবেশের চেষ্টা করে স্থানীয়রা। তখন পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষে রুপ নেয়। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে সামাল দিতে পুলিশও ২৪ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এ সময় ১২ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়। হামলায় পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদ হোসেনের গাড়ি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার গাড়ি, ৪টি মোটরসাইকেল ও থানার কাঁচের জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

 

Lab Scan
ভাগ